দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাহিনবাগের আন্দোলন নিয়ে সোমবারের শুনানিতে দিনের পর দিন রাস্তা আটকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। পর্যবেক্ষণে বলেছে, দিনের পর দিন এভাবে রাস্তা আটকে রাখা যায় না। সেই শুনানিতেই চারমাসের শিশু কোলে আন্দোলন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট।
দিল্লির হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় দিনের পর দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে থেকে ঠান্ডা লেগেছিল ছোট্ট শরীরে। কয়েক দিন লড়াই চলার পরে, গত ৩০ জানুয়ারি শেষমেশ ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয় চারমাস বয়সী মহম্মদ জাহানের। তার বাবা-মা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। জন্মের সাত দিনের মাথা থেকে ওই মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয় সদ্যোজাতকেও।
এদিন শুনানির পরে শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন, চারমাসের শিশুকে কি আন্দোলনে নিয়ে যাওয়া যায়? এই ঘটনার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও দিল্লি পুলিশকে।
শাহিনবাগের আন্দোলনের শুরু থেকেই দেখা গিয়েছে সেখানে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। ফলে মায়েদের সঙ্গে শিশুরাও ওই অবস্থানে বসে থাকছে দীর্ঘদিন ধরে। লখনউয়ের ওয়াচ টাওয়ারের নীচে যে সংখ্যালঘু মহিলাদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সেখানে শিশুদের অংশগ্রহণ রুখতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করেছে শিশু অধিকার রক্ষা কমিটি। বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী কাউকে আন্দোলনে দেখলেই তাদের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
শাহিনবাগে ওই শিশুর মৃত্যুর পর ব্যপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউক কেউ বাবা-মাকে অমানবিক বলে আক্রমণ শানান। কেউ আবার বলেন, সরকারই আজকে দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে বাবা-মাকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। কিন্তু তা যে সুপ্রিম কোর্ট ভাল ভাবে নেয়নি তা এদিনের পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট।