দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গে চিনের সীমান্তে সমস্যা এখনও বজায় রয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার পিছনে এখনও অনেক জায়গায় মোতায়েন রয়েছে লাল ফৌজ। এই অবস্থায় ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি অনেকটাই বেড়েছে বলে খবর। ৩৭টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে চলে এসেছে। গত মাসেই প্রয়োজন মতো সব বিমান ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে মার্কিন সংস্থা বোয়িং। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেই বিমান পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
বোয়িং জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে তাদের ২২টি অ্যাপাচে ও ১৫ টি চিনুক যুদ্ধবিমানের চুক্তি হয়েছিল। ৩২টি বিমান আগেই দেওয়া হয়েছিল। গত মাসে ৫টি অ্যাপাচে বিমান ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গেই সেই চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। এই ৩৭টি যুদ্ধবিমান ভারতের হাতে চলে আসায় আকাশপথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারতের শক্তি অনেকটাই বাড়ল বলে জানিয়েছে বোয়িং।
অ্যাপাচের এএইচ-৬৪ই মডেলের যুদ্ধবিমানগুলি এই মুহূর্তে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী কমব্যাট হেলিকপ্টার। মার্কিন সেনা এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। সেইসঙ্গে চিনুক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয় সেনা, অস্ত্র, রসদ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বোয়িং-এর সঙ্গে এই বিশাল চুক্তি হয় ভারতীয় বায়ুসেনার। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে ভারতীয় বায়ুসেনা এই অ্যাপাচে ও চিনুক যুদ্ধবিমান তৈরি রেখেছে।
বোয়িং ডিফেন্স ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুরেন্দ্র আহুজা জানিয়েছেন, “এই মিলিটারি হেলিকপ্টারগুলি ভারতকে দিয়েছি আমরা। আশা করছি এই সম্পর্ক ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে আগামী দিনেও বজায় থাকবে। যখনই দরকার পড়বে আমরা ভারতীয় বায়ুসেনাকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।”
প্রতিরক্ষা খাতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক গত ছ’বছরে অনেকটা বেড়েছে। ২০১৯ সালে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি ভাবে যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে কথা হচ্ছে দু’দেশের মধ্যে। ২০১৬ সালে আমেরিকা ভারতকে ‘প্রধান প্রতিরক্ষা সহযোগীর’ তকমা দেয়। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে দুই দেশ একে অন্যকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর চলাকালীন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ছটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই বিমানগুলিও শিগগির ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বোয়িং। এমনকি হায়দরাবাদে টাটার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এইচ ৬৪ মডেলের অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের কিছু যন্ত্রাংশের কারখানা খোলার কাজ শুরু করেছে বোয়িং।