দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইন পাশের পর দেশজোড়া বিতর্কের মধ্যে দিন তিনেক আগে গ্যাজেট নোটিফিকেশনও জারি হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই জানা গেল উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রয়োগের কাজ শুরু করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়। উত্তরপ্রদেশের ২১ জেলার ৩২ হাজার মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করার প্রাথমিক কাজও হয়ে গিয়েছে বলে খবর।
গ্যাজেট নোটিফিকেশন হলেও কী পদ্ধতিতে এই আইনের প্রয়োগ হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। যোগীর রাজ্যেও এই কাজ কোন প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। সরকারি আধিকারিক সঞ্জয় শর্মা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “এই আইন প্রয়োগ নিয়ে সরকার কোনও তাড়াহুড়ো করতে চায় না। সময় নিয়ে ধীরেসুস্থেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়িত হবে। তার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।”
রাজ্যের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, “এই প্রক্রিয়া এখন চলবে। সমস্ত জেলাশাসককে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সমীক্ষা করে তালিকা তৈরি করতে। তারপর সেই তালিকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হবে।”
যাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁদের অধিকাংশই লখনউ থেকে ২৬০ কিলোমিটার দূরের পিলভিটের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এখানে বিপুল পরিমাণ উদ্বাস্তু মানুষের বসবাস। ছয়ের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা অধুনা বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে এদেশে চলে আসা বহু মানুষের বসতি এই পিলভিটে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।
নাগরিকত্ব আইন, জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ, জাতীয় জনগণনা পঞ্জি—একাধিক ইস্যুতে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে হিন্দুত্বের অ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়িত করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সিএএ বিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি হিংসা ছড়িয়েছিল এই উত্তরপ্রদেশেই। মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। জখম হয়েছেন তিন হাজারের বেশি আন্দোলনকারী। আন্দোলন প্রশমিত করতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে ইউপি পুলিশ। এদিন জানা গেল সেই রাজ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ।