দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর কোনও জেলা বা শহর বাছাবাছি.করে নয়। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে সোমবার সন্ধের পর কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করে দিল দেশের ৩০টি রাজ্য সম্পূর্ণ লকডাউন। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে তা কার্যকর করতে বলেছে কেন্দ্র।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ মিলেছে। সোমবার মৃত্যু হয়েছে দু'জনের। এরপরই কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয় পূর্ণ লকডাউনের। মোট ৫৪৮টি জেলা পড়ছে লকডাউনের আওতায়। সিকিম এবং মিজোরামকে কেবল লকডাউনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
রবিবার জনতা কার্ফুর দুপুর থেকেই একের পর এক রাজ্য লকডাউন ঘোষণা করতে শুরু করে দেয়। কিন্তু তা ছিল আংশিক। বাংলাতেই যেমন বেছে বেছে এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেছিল নবান্ন। কিন্তু সোমবারের অভিজ্ঞতা দেশজুড়ে বিশেষ ভাল না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলতে বাধ্য হন, লকডাউনকে অনেকে তোয়াক্কাই করছেন না। কিন্তু এদিন সন্ধে নামতেই কড়া হাতে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে নামে। রাজ্যগুলিকে মোদী বলেন, লকডাউন ভাঙলে আইনি ব্যবস্থা নিন।
রাজ্যের যেসব জায়গায় লকডাউন ছিল না সেসব জায়গায় দেখা গিয়েছে বাজার-হাট, চায়ের দোকানে ভিড় জমিয়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। খেলার মাঠে চলছে চুটিয়ে খেলাধূলা। সন্ধের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বাংলার বহু জেলায়। জটলা দেখলেই লাঠি নিয়ে তাড়া করে.পুলিশ। বহু জায়গায় নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৪৭১-এ। এরমধ্যে রয়েছেন ৪১জন বিদেশি নাগরিক। অনেকের বক্তব্য ভারতে করোনা ভাইরাস তৃতীয় স্টেজ অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণে ঢুকে গিয়েছে। এদিন বিকেলেই ডোমেস্টিক তথা অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবাও বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। এখন পূর্ণ লকডাউন ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। আক্ষরিক অর্থে এবার গোটা ভারত অবরুদ্ধ।