কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখল সরকার, রাজ্যও কি সে পথেই হাঁটবে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যে তীব্র অর্থ সংকট তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তিন কিস্তির মহার্ঘ ভাতা তথা ডিএ দেওয়া স্থগিত রাখল মোদী সরকার। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এ বছর জানুয়ারি মাস থেকে ডি
শেষ আপডেট: 23 April 2020 08:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যে তীব্র অর্থ সংকট তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তিন কিস্তির মহার্ঘ ভাতা তথা ডিএ দেওয়া স্থগিত রাখল মোদী সরকার। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এ বছর জানুয়ারি মাস থেকে ডিএ বকেয়া রয়েছে। আগামী বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হবে।
মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা সামলানোর জন্যই সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ৪৮.৩৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও ৬৫.২৬ লক্ষ পেনশনভোগীর উপর প্রভাব পড়বে।
বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারের তরফে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। সমাজের গরিব ও প্রান্তিক মানুষগুলো সব থেকে সংকটে পড়েছেন। তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যও বেশ কিছু পদক্ষেপ করা জরুরি।
“এই প্রেক্ষাপটেই সরকার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ১ জুলাই ২০২১ পর্যন্ত ফ্রিজ (স্থগিত রাখার) করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
নোটিফিকেশনে আরও বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২১ থেকে ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স ও ডিয়ারনেস রিলিফ ফের বাড়ানো শুরু হবে। তবে তা হবে প্রস্পেকটিভ হারে। অর্থাৎ দেড় বছরে যে বকেয়া হল তা তখন হিসাবে ধরা হবে না।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ দেখে রাজ্য সরকারগুলিও সেই পথে হাঁটবে বলে অনেকেই মনে করছেন। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেমন কেরলের বাম সরকার জানিয়েছে, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর ১ মাসের বেতন পিছিয়ে দেওয়া হবে। ওই টাকা পাঁচটি কিস্তিতে কেটে নেওয়া হবে। সরকারের আর্থিক অবস্থা শুধরোলে তবেই ওই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। অসমের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ক'দিন আগেই বলেছেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ের যা অবস্থা তাতে মে, জুন মাস থেকে বেতন দেবে কী ভাবে সেটাই চিন্তা।
এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। রাজ্যের রাজস্ব সংগ্রহের সিংহভাগ টাকা আসে মদ বিক্রির উপর শুল্ক বসিয়ে এবং জমি, বাড়ি বিক্রির উপর কর আদায় থেকে। কিন্তু লকডাউনের ফলে এই দুই ক্ষেত্রেই রাজস্ব আদায় কমে গিয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এমনিতেই কেন্দ্রের কর্মচারীদের থেকে ডিএ কম পান। ফলে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর কপালে ভাঁজ পড়েছে তাঁদেরও।
এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার অবশ্য এখনও কিছু ঘোষণা করেনি। শুধু বুধবার জানিয়েছিল, প্রভিডেন্ট ফান্ডে সুদের হার কমিয়ে ৭.১ শতাংশ করা হয়েছে। এখন দেখার ডিএ নিয়ে নবান্ন কিছু জানায় কিনা।