দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণে দেশের তিনটি বড় শহরের অবস্থা বিপজ্জনক। বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে মুম্বই, দিল্লি এবং আমদাবাদে সংক্রামিতের সংখ্যা মোট আক্রান্তের এক তৃতীয়াংশ।
এর মধ্যে সবার উপরে রয়েছে মুম্বই। বাণিজ্য নগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে করোনা পজিটিভ ২০৮১, আমদাবাদে ১২৯৮। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি শহরের অবস্থা গুরুতর। ইন্দোরে ৯১৫, পুণেতে ৬৬০ এবং রাজস্থানের জয়পুরে ৫৩৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকদিন আগেই দেশের মেট্রোসিটিগুলিকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই তালিকায় ছিল কলকাতাও। কিন্তু কলকাতার সংক্রমণ এই মাত্রায় নয়।
গত ২ এপ্রিলের সাংবাদিক বৈঠকে আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল। বলেছিলেন দেশের ৭৩৬টি জেলার মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে ২১১টি জেলায়। মাঝে ২০ দিনের মধ্যেই নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়েছে ২০০-র বেশি জেলায়।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে, দেশে এখন করোনা সংক্রামিত জেলার সংখ্যা ৪৩০টি। অর্থাৎ ২ এপ্রিল থেকে এর মধ্যে নতুন করে ২১৯টি জেলায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
বিশ হাজারের গণ্ডি পার করে গিয়েছে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, মোট আক্রান্তের ৪৫ শতাংশ দেশের ছ’টি বড় শহরের।
বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতে অনেক ধীর গতিতে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। লকডাউনের ফলেই এটা সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। গত সোমবার লব আগরওয়াল বলেছিলেন, আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময়ও বেড়েছে। লকডাউনের আগে ৩.৪ দিনে দ্বিগুণ হচ্ছিল আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্ত এখন সেটা হচ্ছে ৭.৫ দিনে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থা মহারাষ্ট্রের। মারাঠা মুলুকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। দেশের মোট আক্রান্তের চার ভাগের এক ভাগ। ছটি অতি স্পর্শকাতর শহরের মধ্যে দুটি মহারাষ্ট্রের। মুম্বই এবং পুণে।