দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশি চোরাচালানকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের অন্তত ৩ জওয়ান। শনিবার এই হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বাঁশঘাটাতে বিএসএফ ক্যাম্পের পাশে ঘটেছে এই ঘটনা। বিএসএফের ১০৭ নম্বর ব্যাটেলিয়নের তিন জওয়ান রাতে ওই এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন বাংলাদেশি চোরাচালানকারীদের দেখতে পান তাঁরা।
বিএসএফ সূত্রে খবর, সেই সময় রাতে সাড়ে তিনটে বাজছিল। সংখ্যায় মাত্র তিনজন থাকলেও চোরাচালানকারীদের সামনে রুখে দাঁড়ান জওয়ানরা। তখনই প্রথমে তাঁদের ঘিরে ধরে চোরাচালানকারীরা। তারপর আক্রমণ করে। তাদের হাতে দা, ভোজালি, লোহার রড ও লাঠি ছিল বলে খবর। এই হামলায় গুরুতর আহত হন ওই তিন জওয়ান।
আহত হলেও এলাকা ছাড়েননি জওয়ানরা। নিজেদের পাম্প অ্যাকশন গান থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়েন তাঁরা। তাতে ওই চোরাচালানকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যায়। পালাতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে অনেক সামগ্রী পড়ে যায়। অন্তত আট কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।
বিএসএফ সূত্রে খবর, জওয়ানদের ছোড়া গুলিতে এক-দু’জন চোরাচালানকারীও আহত হয়েছে। ওই এলাকার আশেপাশে টহলদারি আরও বাড়িয়েছে বিএসএফ।
সীমান্তে এই ধরনের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তৃত সীমান্তের কিছু কিছু এলাকায় এই চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। যেখানে সীমান্তে সুরক্ষা কম, সেখান দিয়েই সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। অনেক সময় টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষকে সীমান্ত পার করে দেওয়ারও চেষ্টা করে তারা।
এই ধরনের কাজ আটকানোর জন্য ভারতের দিকে বিএসএফ ও সীমান্তের ওপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জওয়ানরা মোতায়েন থাকেন। মাঝেমধ্যেই চোরাচালানকারী ও দুষ্কৃতীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কয়েক মাস আগে ভারত থেকে বাংলাদেশ যেতে যাওয়া কয়েক হাজার মানুষকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। কিন্তু জেরায় জানা যায়, তাঁরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পরে ভয়ে ফের বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তখনই তাঁদের আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।