দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন তারকা সুরেশ রায়নার পিসেমশাইকে খুন ও পিসি-সহ বাকিদের জখম করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পরেই পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ।
পঞ্জাবের ডিজিপি দিনকর গুপ্তা জানিয়েছেন, ধৃতরা একটি স্থানীয় দুষ্কৃতী দলের সদস্য। তাদের দলে আরও ১১ জন রয়েছে। এই মুহূর্তে তারা পলাতক। তাদের খোঁজ চলছে। এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন দল খবর পায়, পাঠানকোট রেল স্টেশনের কাছে একটি বস্তিতে লুকিয়ে রয়েছে তিন সন্দেহভাজন যুবক। খোঁজ পেয়ে সেখানে হানা দেয় পুলিশ। তিনজনকেই গ্রেফতার করে তারা। তাদের কাছে ধারালো অস্ত্র, সোনার গয়না ও ১৫৩০ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।
পুলিশের জেরার মুখে ধৃত তিনজন স্বীকার করে তাদের গ্যাং পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও জম্মু কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় এই ধরনের ছিনতাইয়ের কাজ করে। তারা জানায়, এক জায়গায় ছিনতাইয়ের পরে বেশ কিছুদিন গা ঢাকা দেয় তারা। তারপরেই জানা যায় ওই দুষ্কৃতীরা রায়নার পিসেমশাই অশোক কুমারের বাড়িতে হামলা করেছিল।
ডিজিপি দিনকর গুপ্তা জানিয়েছেন, রায়নার পিসেমশাইয়ের বাড়িতে যেদিন দুষ্কৃতীরা হামলা করে সেদিন তারা ছোট ছোট দলে ভাগ করে ওই এলাকার একাধিক বাড়িতেই হামলা করেছিল। পাঁচজন অশোকবাবুর বাড়িতে মই দিয়ে ঢোকে। ছাদে গিয়ে তারা দেখে কয়েকজন সেখানে ঘুমিয়ে আছে। তাঁদের মাথায় আঘাত করে বাড়িতে ছিনতাই করে তারা পালিয়ে যায়। সেই আঘাতেই মৃত্যু হয় অশোকবাবুর। রায়নার পিসি, পিসতুতো দুই ভাই ও পিসেমশাইয়ের মা হাসপাতালে ভর্তি হন।
এই ঘটনার পরেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ফিরে আসেন সুরেশ রায়না। পঞ্জাব পুলিশের হস্তক্ষেপ চেয়ে টুইট করেন রায়না। টুইট করে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের কাছে তিনি আর্জি জানান যাতে পুলিশ এই ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হয়। সুরেশ রায়নার আবেদনে সাড়া দেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। তিনি জানান, পঞ্জাব পুলিশের একটি স্পেশ্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা এই ঘটনার তদন্ত করবে। অপরাধীদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।
টুইট করে রায়না বলেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত জানতে পারিনি সেদিন কী ঘটেছিল। পঞ্জাব পুলিশের কাছে আমার আবেদন তারা যেন এ বিষয়ে নজর দেন। অন্তত কারা এমন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা দরকার। ওদের আর অপরাধ করতে দেওয়া যাবে না। কোনও মতেই ওদের ছেড়ে দেওয়া যায় না।”
রায়না আরও বলেন, “আমার পরিবারের সঙ্গে যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে তা কল্পনার অতীত। আমার পিসেমশাইকে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার পিসি অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন। এক ভাই হাসপাতালেই মারা গিয়েছেন। আরও দু’জন গুরুতর চোট পেয়েছেন।”
পঞ্জাবের পাঠানকোটের পাথারিয়াল গ্রামে থাকেন রায়নার পিসি ও তাঁর পরিবার। সেখানে তাঁদের বাড়িতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হামলা হয়। পরিবারের সবাই যখন রাতে বাড়ির ছাদে ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন তাঁদের বাড়িতে ঢোকে দুষ্কৃতীদের দল। ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা সবার উপর আক্রমণ করে। সেই ঘটনাতেই এবার তিনজনকে গ্রেফতার করল পঞ্জাব পুলিশ।