দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব দিল্লির রোহিনী এলাকায় মানসিক প্রতিবন্ধীদের একটি শেল্টার হোমে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। তাঁদের মধ্যে আট শিশুও রয়েছে। শেল্টারে থাকা রোগী ছাড়াও সেখানকার কর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর।
এই শেল্টার হোমটির নাম আশা কিরণ শেল্টার হোম। হোমটির দায়িত্ব দিল্লি সরকারের সমাজ কল্যাণ দফতরের হাতে রয়েছে। অভিযোগ, হোমে সর্বাধিক ৫৫০ জন রোগীকে রাখা সম্ভব। কিন্তু সেখানে ৯৬০ জন রোগী বর্তমানে রয়েছেন। এছাড়াও পরিষেবা নিয়ে আরও অনেক অভিযোগ এসেছে।
হোমের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ৫ থেকে ২০ জুনের মধ্যে এই ২৩ জনের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তার মধ্যে ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী আট শিশুও রয়েছে। সাতজন সাবালক রোগী ও আট কর্মীর শরীরেও ছড়িয়েছে সংক্রমণ। তাঁদের মধ্যে এক চিকিৎসকও রয়েছেন। আক্রান্ত কর্মীদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
এই হোমের প্রশাসক এ কে কৌশল জানিয়েছেন, “এখন ২০ জন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। একজন মারা গিয়েছেন। বাকি দু’জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। শিশুদের বেশিরভাগেরই মৃদু উপসর্গ ছিল। তাদের সুলতানপুরী কোভিড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের অশোক বিহারের দীপ চাঁদ বন্ধু হাসপাতাল ও দিলশাদ গার্ডেনের জিটিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
কৌশল আরও জানিয়েছেন, ৩ জুন প্রথম এক কর্মীর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তিনি শিশু ও অন্যান্য রোগীদের খাবার দিতে গিয়ে তাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। অনেককে খাইয়েও দেন ওই কর্মী। ফলে তাঁর থেকেই বাকিদের শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়। কৌশল জানান, “প্রথম ঘটনা সামনে আসার পরেই আমরা ১১ শিশুকে আইসোলেশনে রেখেছিলাম। তাদের পরীক্ষা করা হয়। তখনই আটজনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে।”
এখনও ওই হোমের বাকিদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে খবর। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কর্মীদের শিফটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বাইরে থেকে লোক আসা বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি কর্মীদের প্রত্যেককে থার্মাল স্ক্রিনিং করার পরেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।
তবে এই হোমের পরিষেবার দিকে আঙুল তুলেছেন কিছু রোগীর আত্মীয়। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি হোম হওয়া সত্ত্বেও অনেক বেশি রোগী থাকে সেখানে। ফলে অল্প জায়গায় বেশি জমায়েত হয়। এর ফলেই বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এছাড়া রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলে এই সমস্যা হত না বলেই জানিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে অবশ্য কেজরিওয়াল সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোমের এক কর্মী জানিয়েছেন, ২৩-এর থেকে অনেক বেশি রোগী আক্রান্ত হয়েছেন ওই হোমে। এই সংখ্যাটা ৫০-এর বেশি হবে বলেই দাবি তাঁর। তিনি জানিয়েছেন, ঠিকমতো পরীক্ষা করলেই সেটা ধরা পড়বে। প্রথম আক্রান্তের ঘটনা সামনে আসার পরে ঠিকমতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ করেছেন তিনি।