দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরু হয়ে গিয়েছে লাস্ট মিনিট কাউন্টডাউন। আর মাত্র ২০ ঘণ্টা। তারপরেই চাঁদে পাড়ি দেবে ভারতীয় মহাকাশযান চন্দ্রযান-২। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, দূরদর্শন চ্যানেলে লাইভ উৎক্ষেপণ দেখতে পাবেন জনগণ। এ ছাড়া ইউটিউবেও দূরদর্শনের চ্যানেলে লাইভ দেখা যাবে।
ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটের সাহায্যে চাঁদে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান-২ স্যাটেলাইট। ১৫ জুলাই শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে এই মহাকাশযান। সোমবার রাত ২.৫১ নাগাদ চন্দ্রযান-২-কে নিয়ে পাড়ি দেবে বাহুবলী। ১৬ মিনিট উড়ানের পর মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে যাবে বাহুবলী। ইসরো প্রধান কে সিভান জানিয়েছেন, “এই অভিযানের শেষ ১৫ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ”।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, ৬ সেপ্টেম্বর পৌঁছনো যাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। চন্দ্রযান-২-এর এই অভিযানে মোট খরচ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বলছে, অভিযানে সফল হলে চাঁদের মাটিতে মহাকাশযান পাঠানো দেশগুলির তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে আসবে ভারতের নাম। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিন মহাকাশযান পাঠিয়েছিল চাঁদে। ২০১৯-এর শুরুতেই চাঁদে মহাকাশযান অবতরণ করানোর চেষ্টা করেছিল ইজরায়েল। কিন্তু চাঁদের খুব কাছাকাছি এসে ভেঙে পড়ে এই মহাকাশযান।
যে রকেটে চড়ে চন্দ্রযান-২ চাঁদে পাড়ি দেবে, সেই জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল(GSLV) মার্ক থ্রি এই মূহুর্তে ভারতের সব থেকে শক্তিশালী রকেট। এটি চন্দ্রযান-২ কে পৌঁছে দেবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে। শক্তিশালী এই রকেটটিকে তুলনা করা হয়েছে সিলভার স্ক্রিনের চরিত্র বাহুবলীর সঙ্গেও। এই বাহুবলী রকেটের ওজন প্রায় ৬৪০ টন। ইসরোর বিজ্ঞানীমহলে এই রকেট ‘fat boy’ নামে পরিচিত। এখনও অবধি ১৩টি মহাকাশ অভিযানের জন্য এই রকেট ব্যবহৃত হয়েছে। এই রকেটে থাকছে একটি অর্বিটার, বিক্রম নামের একটি ল্যান্ডার এবং রোভার প্রজ্ঞান।
ভারতেই বানানো হয়েছে চন্দ্রযান-২। ওজন ৩.৮ টন। অর্বিটারটি চাঁদের উপরের অংশ এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন খনিজের ছবি তুলবে ও ম্যাপিং করবে। ল্যান্ডার অংশের ওজন ১,৪৭১ কিলোগ্রাম। চাঁদের ভূমিকম্প এবং তাপমাত্রা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ করবে এই ল্যান্ডার। পাশাপাশি প্রজ্ঞান নামের ২৭ কিলোগ্রামের ছয় চাকার চলমান যানের মাধ্যমে চাঁদের মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। চাঁদের দক্ষিণ প্রান্তে পর্যবেক্ষণ চালাবে প্রজ্ঞান। ১৪ দিন ধরে চাঁদের আধ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সফর করবে এই রোভার।