দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছিল লড়াই। তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লিতে গর্তে পড়ে যাওয়া দু'বছরের সুজিত উইলসনকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছিল উদ্ধারকারী দল। কিন্তু সোমবার রাত থেকেই আশার আলো কমতে থাকে। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার করা হল সুজিতের মৃতদেহ।
উদ্ধারকারী দলের তরফে তামিলনাড়ুর পরিবহণ দফতরের মুখ্যসচিব জে রাধাকৃষ্ণণ বলেন, "দু'বছরের শিশুটির দেহে পচন ধরেছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছিলাম বাঁচানোর। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পারিনি। সোমবার রাত থেকেই একটা দুর্গন্ধ আসা শুরু হয়। তারপরেই গর্ত করা থামিয়ে দিই আমরা। আজ সকালে মৃতদেহ উদ্ধার হয় গর্ত থেকে।" সুজিতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার বাড়ির সামনে খেলতে খেলতে অসাবধানতায় ৬০০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যায় ২ বছরের সুজিত উইলসন। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। তারপর থেকেই ম্যারাথন উদ্ধারকাজ শুরু হয়। তামিলনাড়ু প্রশাসনের এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক জানান, যে কূপে বাচ্চাটি পড়ে গিয়েছে তার সমান্তরালে এক মিটার চওড়া একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়েছে উদ্ধারকারী দল। ওই সুড়ঙ্গপথেই শিশুটিকে বের করে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অত্যন্ত রুক্ষ এবং পাথুরে জমি হওয়ায় সুড়ঙ্গ কাটার কাজ চলছে খুবই ধীর গতিতে। নয়তো পাথর ভেঙে বাচ্চাটির বড় বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথমে সুজিত ২৬ ফুট নীচে আটকে গিয়েছিল। সেই সময় তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। হাতে দড়ির ফাঁস জড়িয়ে বাচ্চাটিকে উপরে তুলে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই সময় আচমকাই স্লিপ করে কূপের অনেকটা গভীরে পড়ে যায় বাচ্চাটি। অনুমান, প্রায় ৯০ ফুট গভীরে আটকে যায় ছোট্ট সুজিত।
সোমবার বিকেলে তামিলনাড়ুর রিলিফ কমিশনার জানান, শিশুটি যাতে আরও গভীরে না পড়ে যায় আপাতত সে দিকেই নজর রাখা হচ্ছে। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, হয়তো ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বাচ্চাটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে। কিন্তু তা হল না। উদ্ধার করার আগেই মারা গেল সুজিত।