দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে হাসপাতাল ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তবলিঘ-ই-জামাতের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগের পরে গত মাসের কেন্দ্রের লাগু করা মহামারী আইনের আওতায় অভিযুক্তদের শাস্তি হতে পারে বলেই জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, একটি ক্ষেত্রে দিল্লির নারেলা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নোংরা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে জামাতের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। ওই দুই সদস্য উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগ উঠেছে লোক নায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে। সেখানে কিছু জামাত সদস্য অপারেশন থিয়েটারের সামনে থুতু ফেলেছেন বলে অভিযোগ। এক সিনিয়র ডাক্তার বলেছেন, “জানা গিয়েছে হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিল্ডিংয়ের তিন তলায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা কিছু জামাত সদস্য অপারেশন থিয়েটারের সামনে থুতু ফেলেছেন। এর ফলে গোটা হাসপাতাল চত্বরেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটা খুবই বিপদজনক।”
দিল্লি পুলিশের এক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন, ওই সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এই মর্মে এফআইআরও হয়েছে। এখন কেন্দ্রের লাগু করা মহামারী আইনের আওতায় তাঁদের শাস্তি হতে পারে।
রাজধানীতে নিজামুদ্দিনের একটি মসজিদে তবলিঘ-ই-জামাতের এই জমায়েত ঘিরে আতঙ্কিত প্রশাসন। এই জমায়েত থেকে গোটা দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ইতিমধ্যেই ভারতের মোট করোনা আক্রান্তের মধ্যে ১৪৪৫ জন জামাতের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই নিজামুদ্দিনে জামাতের হেড কোয়ার্টার থেকে প্রায় ২ হাজার সদস্যকে বের করে এনে বিভিন্ন হাসপাতাল ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে। তার আগেই অবশ্য এই জমায়েতে অংশ নেওয়া অনেকেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চলে গিয়েছেন। তাঁদের খোঁজ করছে বিভিন্ন রাজ্য সরকারগুলি।
জামাতের সদস্যদের উপরে এই অভিযোগ নতুন নয়। কয়েক দিন আগেই দিল্লির এক হাসপাতালে নার্সদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এবার করোনা সংক্রমণের অভিযোগে দায়ের হল এফআইআর।