দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মাসে সমীক্ষা করে চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান দিয়েছিল সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি তথা সিএমআইই। পরিসংখ্যান দিয়ে সংস্থাটি দাবি করেছিল,লকডাউনের ফলে মার্চ-এপ্রিল মাসে ভারতের প্রায় ১২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ জীবিকা হারিয়েছেন। সেই সিএমআইই জুন মাসের শুরুতে.মে মাসের যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হচ্ছে লকডাউনের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার ফলে প্রায় দু'কোটি ১০ লক্ষ কাজ হারানো মানুষ নিজেদের জীবিকায় ফিরতে পেরেছেন। তবে রিপোর্টে এও বলা হয়েছে এখনও বেকারত্ব সর্বোচ্চ।
সংস্থাটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে মানুষ কাজ হারিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক। কেউ নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত, কেউ রিকশা বা ভ্যান চালক। জুনের রিপোর্টে সিএমআইই-এ বলছে, যাঁরা জীবিকায় ফিরতে পেরেছেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছোট দোকানদার, রিকশা বা ভ্যান চালক। তবে বড় অংশের নির্মাণ শ্রমিক এখনও কর্মহীন হয়ে রয়েছেন।
গতকাল ১ জুন থেকে আনলক ফেস-১ শুরু হয়েছে। সমীক্ষাকারী সংস্থা মনে করছে জুন মাসে আরও অনেকে নিজের জীবিকায় ফিরতে পারবেন। কিন্তু তার পরেও একটা বড় অংশ থাকবেন তাঁদের কাজ জুটবে না। সিএমআইই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০ এপ্রিল থেকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল তার ফলে কাজ হারানো মানুষের কাজে যোগ দেওয়ার বৃদ্ধি দিচ্ছিল ৭.৫ শতাংশ। মে মাসে সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশ।
তবে এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে শ্রমিকদের কাজ পাওয়ার বৃদ্ধি হলেও এখনও তা অতীব দুর্বল জায়গায় থমকে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সমীক্ষা রিপোর্টে। মাসিক বেতনের কাজ যাঁরা করতেন তাঁদের সংকট তীব্র বলে উঠে এসেছে ওই সংস্থার সমীক্ষায়। তাঁদের কাজ ফিরে পাওয়াও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তার তুলনায় দিন মজুরি ভিত্তিক কাজ যাঁরা করতেন, তাঁরা অনেক বেশি জীবিকা ফিরে পাচ্ছেন।
লকডাউনের ফলে সারা বিশ্বের অর্থনীতিই ধাক্কা খেয়েছে। ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভর্সিটির একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, লকডাউনের ফলে সারা বিশ্বে নতুন করে প্রায় ১২ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে পৌঁছে যাবে। দারিদ্রসীমার নীচে থাকা বিশ্বে মোট মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে কমবেশি ৮২ কোটি।
সোমবার অর্থনৈতিক রেটিং সংস্থা মুডিজ যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে ভারতের অর্থনৈতিক রেখাচিত্রে পতন স্পষ্ট। যদিও মঙ্গলবার সিআইআইয়ের ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পথে ফিরবে।
কিন্তু কবে? সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।