দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাগের মাথায় বাবাকে খুন করল নাবালক ছেলে। তারপরে তথ্য প্রমাণ লোপাটের জন্য ‘ক্রাইম পেট্রোল’ সিরিয়াল দেখে সে। সিরিয়াল দেখেই প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে কিশোর। তাকে সেই কাজে সাহায্য করে তার মা। তদন্তে নেমে এই ঘটনা অবাক করেছে পুলিশকে। ছেলে ও মা দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মথুরাতে। ১৭ বছরের ওই কিশোর দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। মে মাসে বাবাকে খুন করে সে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে এতদিনে অভিযুক্ত ও তার মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই কিশোরের মোবাইল ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, ঘটনার দিন ক্রাইম পেট্রোলের ১০০ টিরও বেশি এপিসোড দেখেছিল সে। এই ঘটনা থেকেই তার উপর সন্দেহ হয় পুলিশের। তারপরেই গ্রেফতার করা হয় তাকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২ মে কিশোরের বাবা মনোজ মিশ্র তাকে বকাবকি করলে রাগে বাবার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ছেলে। তারপরে গলায় কাপড়ের টুকরো জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করে ছেলে। তারপরে সেই রাতেই মায়ের সাহায্যে একটি স্কুটিতে করে বাবার দেহ পাঁচ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায় সে। তারপর পেট্রোল ও বাথরুম পরিষ্কার করার রাসায়নিক ছিটিয়ে দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সে।
৩ মে জঙ্গল থেকে আধপোড়া একটি দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু কোনও নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় বেশ কিছুদিন সেই দেহ মর্গেই পড়ে থাকে। কিন্তু ২৭ মে ইস্কন আধিকারিকদের চাপে থানায় মনোজ মিশ্রর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করতে বাধ্য হয় তাঁর পরিবার। ইস্কনের হয়ে কাজ করতেন মনোজ। অনেক দিন তাঁর দেখা পাননি সহকর্মী ও বন্ধুরা। প্রথমে কিছু সন্দেহ হয়নি তাঁদের। কারণ মাঝেমধ্যেই গীতা পাঠ করতে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন মনোজ। কিন্তু তাঁর ফোনেও যোগাযোগ না হওয়ায় তাঁদের সন্দেহ হয়। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পারেন অনেক দিন তাঁর কোনও খোঁজ নেই। অবশেষে তাঁদের চাপে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার।
এই ঘটনার পরেই জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া আধপোড়া দেহের চশমা দেখে তাঁর বন্ধুরা সেই দেহ শনাক্ত করেন। তারপরেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
মথুরার পুলিশ সুপার উদয় শঙ্কর সিং জানিয়েছেন, ঘটনার পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মনোজের ছেলেকে থানায় আসতে বললে সে হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিল। এমনকি সে পুলিশকে জিজ্ঞাসা করে কোন আইনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে সন্দেহ হয় পুলিশের। তারপরেই কিশোরের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ফোন ঘেঁটে দেখা যায় মোবাইলে ক্রাইম পেট্রোলের ১০০-র বেশি এপিসোড দেখেছে সে। তারপরে দফায় দফায় জেরা শুরু করে পুলিশ। অবশেষে নিজের অপরাধ স্বীকার করে কিশোর।
এই ঘটনার পরে কিশোর ও তার মা সঙ্গীতা মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে খুন ও প্রমাণ লোপাটের ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মনোজের ১১ বছরের মেয়েকে তাঁর বাবা-মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।