দ্য ওয়াল ব্যুরো: জয় শ্রীরাম না বলায় ১৫ বছরের এক কিশোরকে আগুনে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে উত্তরপ্রদেশের চান্দৌলি জেলায় ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় কিশোরকে ভর্তি করা হয়েছে বারাণসীর কবীর চৌরা হাসপাতালে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরের পরিবার অভিযোগ করেছে, সোমবার সকালে গ্রামের কিছু ব্যক্তি ওই কিশোরকে জয় শ্রীরাম বলার জন্য জোর করে। কিন্তু সে রাজি না হওয়ায় প্রথমে তাকে মারধর করা হয় ও তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, কিশোরটির শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। অবস্থা গুরুতর হলেও জ্ঞান রয়েছে তার।
অবশ্য তদন্তকারী পুলিশদের বয়ান কিছুটা আলাদা। চান্দৌলি পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর নিজেই গায়ে আগুন ধরিয়েছে। তারা জানিয়েছে, কিশোর এক এক সময় এক এক রকমের কথা বলছে। কথার মধ্যে মিল থাকছে না। চান্দৌলির পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার সিং জানিয়েছেন, কিশোরটি যা বলছে, সবই মিথ্যে। সে নিজেই গায়ে আগুন ধরিয়েছে। এখন জয় শ্রীরাম-এর গল্প খাড়া করা হচ্ছে।
সুপার আরও বলেছেন, "৪৫ শতাংশ পোড়া নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন লোককে বিভিন্ন কথা বলেছে সে। তাই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে তাকে শিখিয়ে পড়িয়ে পাঠানো হয়েছে। কিশোর যে যে জায়গার কথা বলছে, সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখা হয়েছে। দেখা গেছে কোথাও সে ছিল না।"
পুলিশ সূত্রে খবর, দুটো আলাদা আলাদা বক্তব্য দিয়েছে ওই কিশোর। প্রথমে সে বলেছিল, মহারাজপুর গ্রামে দৌড় প্রতিযোগিতায় নাম দিতে গিয়েছিল সে। সেখানেই কয়েকজন গ্রামবাসী তাকে জোর করে জয় শ্রীরাম বলতে বলে। কিন্তু সে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে একটা মাঠে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যখন তাকে বারাণসীতে ভর্তি করা হয়, তখন সে বলে চারজন ব্যক্তি তাকে মোটরবাইকে করে কিডন্যাপ করে হাতিজা গ্রামে নিয়ে গিয়ে তাকে জয় শ্রীরাম বলতে বলে। কিন্তু না বলায় মারধর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। অথচ মহারাজপুর ও হাতিজা গ্রাম দু'দিকে অবস্থিত।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। আসল ঘটনা কী, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে তারা।