দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'দিন আগে ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছিল কী ভাবে ড্রোন দিয়ে গোলা ছুড়ে পাক ভূখণ্ডের জঙ্গিঘাঁটি ও গোলাবারুদের গুদাম গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রবিবার গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হল, শুধু জঙ্গিঘাঁটিই ধ্বংস হয়নি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রত্যাঘাতে ১৫ জন পাকিস্তানি সেনা ও আট জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রথমে লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। এই প্রথম নয়, ধারাবাহিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গোলাগুলি ছুড়ছে পাক সেনাবাহিনী।
করোনা সংক্রমণের মধ্যেও স্বভাব বদলায়নি পাকিস্তানের। শুক্রবার কেরান ও তাঙ্গধের সেক্টরে এলোপাথাড়ি গোলাবর্ষণ করে পাক সেনা। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী পালটা জবাব দেয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে দু’পক্ষের গোলাবর্ষণ চলে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে অবস্থিত ছ-সাতটি গ্রাম থেকে মানুষ পালিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন।
গত ৫ এপ্রিল ভারতীয় সেনা খতম করেছিল পাঁচ জঙ্গিকে। এদিনের গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই পাঁচজনের মধ্যে দু'জন জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা। বাকি তিনজন জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষিত জঙ্গি।
সীমান্তের ওপার থেকে ধারাবাহিক গোলা ছুড়ছিল পাকিস্তান। জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে প্যারাকম্যান্ডোদের খবর দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ইউনিটের পাঁচ জওয়ান সুবেদার সঞ্জীব কুমার, প্যারাট্রুপার বালকিষাণ, প্যারাট্রুপার ছত্রপাল সিং, হাবিলদার দেবেন্দ্র সিং ও প্যারাট্রুপার অমিত কুমার নামেন জঙ্গি-দমন অভিযানে। অপারেশনের নাম দেওয়া হয় ‘রান্দোরি বেহেক’। এবং সেই অপারেশন যে সার্থক হয়েছে তা স্পষ্ট করল এদিনের গোয়েন্দা রিপোর্ট।
ভারত যে আঘাত হেনেছে তা মেনে নিয়েছে পাকিস্তানও। যদিও সেনা ও জঙ্গিদের মৃত্যুর খবর স্বীকার করেনি ইসলামাবাদ। পর্যবেক্ষকদের মতে, যা পাকিস্তান প্রতিবারই করে। বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইকের সময়েও ইমরান খান সরকার বলেছিল, কটা গাছ বাদ দিয়ে কোনও ক্ষতি করতে পারেনি ভারতীয় বায়ুসেনা। এবারও সেই বক্তব্যের অন্যথা হয়নি।