দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক, চিন-ফেরত ১১ যাত্রী পর্যবেক্ষণে, জারি চূড়ান্ত সতর্কতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই চিন থেকে আসা ১১ যাত্রীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে খবর। তার মধ্যে ৭ জনই কেরলের বাসিন্দা। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের কবলে পড়ে চিনে ৪১ জন মারা গিয়েছেন। প্রায় ১৩০
শেষ আপডেট: 25 January 2020 08:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই চিন থেকে আসা ১১ যাত্রীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে খবর। তার মধ্যে ৭ জনই কেরলের বাসিন্দা। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের কবলে পড়ে চিনে ৪১ জন মারা গিয়েছেন। প্রায় ১৩০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাই ভারতেও জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। বিশেষ করে বিমানবন্দরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিন থেকে এই মুহূর্তে যাঁরা আসছেন, তাঁদের জন্য বিমানবন্দরেই থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই ১১ জন আক্রান্তের মধ্যে সাত জন কেরলের বাসিন্দা ছাড়া বাকিদের মধ্যে দু’জন মুম্বই, একজন বেঙ্গালুরু ও একজন হায়দরাবাদের বাসিন্দা। কেরল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, “যে সাতজনের মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই চিন থেকে ফিরেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।”
সম্প্রতি চিন ও হংকং থেকে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ ভারতে এসেছেন। তাঁদের প্রত্যেককেই বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।
কেরল প্রশাসন আরও জানিয়েছে, সেই রাজ্যের মোট ৮০ জনের উপর এই থার্মাল স্ক্রিনিং করে দেখা হয়েছে। সাতজন ছাড়া বাকিদের দেহে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস ( এইমস )-এর তরফে একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই এই করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের রাখা হয়েছে। কেরল প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষের জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।

অন্যদিকে চিন-ফেরত দুই যাত্রীর থেকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়ানোর পরে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দফতর। চিনে বহুদিন বসবাস করার পরে দেশে ফিরেছেন এমন মানুষজন যাঁরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বা সর্দি-জ্বর-কাশি রয়েছে, তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই জন্য কয়েকটি হাসপাতালে তৈরি হয়েছে বিশেষ ওয়ার্ড, প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিক্যাল টিমকে।
মুম্বইয়ের মতো একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কলকাতাতেও। কলকাতা বিমানবন্দরের নির্দেশে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে তৈরি হয়েছে আলাদা ওয়ার্ড। সংক্রামিত রোগীদের আলাদা করে রাখার জন্য হাসপাতালে ১৬টি কেবিন ও দু’টি আইসিইউ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর মতো যাবতীয় ওষুধপত্রও মজুত রাখা হয়েছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ টিম তৈরি রাখা হয়েছে।
ডাক্তাররা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসনালী ও গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল ট্র্যাকে থাবা বসায়। এই সংক্রমণ অনেকটাই সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিনড্রোম বা সার্স (SARS) এবং মিডল ইস্ট রেসপিরেটারি সিনড্রোম বা মার্সের (MARS) মতো। চিন থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ ছড়াচ্ছে এশিয়াতে। জাপান, তাইল্যান্ড, কোরিয়া, হংকংয়ে এই ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। আমেরিকাতেও করোনাভাইরাস সংক্রামিত রোগীর খোঁজ মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সতর্কবার্তার পরে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই ও চেন্নাই বিমানবন্দরে জারি হয়েছে সতর্কতা।