দ্য ওয়াল ব্যুরো: নববর্ষের সকালে.জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে আবেদন করেন, এই সংকটের সময়ে কাউকে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দেবেন না।
টানা লকডাউনের ফলে বিশ্বঅর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ভরতের অর্থনীতিতেও অধোগতি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি ছোট-বড় বেসরকারি সংস্থার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আর্জি জানিয়েছেন, "এই পরিস্থিতিতে আরও সংবেদনশীল হোন। দয়া করে কাউকে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দেবেন না।"
করোনা নিয়ে জাতির উদ্দেশে প্রথম বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি সংস্থাগুলির উদ্দেশে বলেছিলেন, "এই সময়ে যানবাহনের অসুবিধার জন্য কেউ যদি কাজে না যেতে পারেন তাহলে তাঁর মাইনে কাটবেন না।" সেটা মার্চের মাঝামাঝি সময়। তখনও লকডাউন জারি হয়নি দেশে।
২১ দিন লকডাউনের পর আরও ১৯ দিন তা বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। লকডাউন চলবে ৩ মে পর্যন্ত। এই সময়ে ছোট সংস্থাগুলি তো বটেই বহু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের মাইনে কাটতে শুরু করেছে। অনলাইন ডেলিভারি সংস্থা থেকে তাবড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা তাঁদের এক্সিকিউটিভস্তরের আধিকারিক থেকে সাধারণ কর্মীদের ২৫, ৩০ এমনকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কেটেছে।
অনেকের বক্তব্য, কম মাইনে তবু এক জিনিস। কিন্তু কাজ হারানো মানে এই সময়ে মরার উপর খাঁড়ার ঘা পড়ার মতো। বহু ' ঠিকাশ্রমিককে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এই সময়ে। মার্চের শেষে একটি অনলাইন গাড়ি বুকিং সংস্থার প্রায় ৫০০ কর্মীর চাকরি গিয়েছে। বহু সংবাদমাধ্যমেও কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়ে গিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে এইসব খবর পেয়েই হয়তো প্রধানমন্ত্রী আরও একবার আর্জি জানালেন এদিন।
বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার বলছে, মহামন্দার পর অর্থনীতিতে এত বড় বিপর্যয় কখনও আসেনি। সারা পৃথিবীর উৎপাদন ব্যবস্থা থমকে গেছে। তার প্রভাব কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কাতর আর্জি জানানো ছাড়া আর কিছু করারও নেই। কিন্তু মোদীর আবেদনের পরেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না অনেকে। বেসরকারি সংস্থার লক্ষ লক্ষ কর্মীর আতঙ্ক, এই বোধহয় মেল করে জানিয়ে দেবে চাকরিটা নেই!