মুম্বইয়ে বস্তি এলাকায় ৫৭ শতাংশ মানুষ সংক্রামিত হয়েছিলেন, তৈরি হয়েছে অ্যান্টিবডি, প্রমাণ মিলল সেরো সার্ভেতে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্রে। এই রাজ্যের মধ্যে আবার আক্রান্ত সবথেকে বেশি মুম্বইয়ে। বাণিজ্য নগরীতে সংক্রমণের ছবিটা ঠিক কী, তা জানার জন্য হয়েছিল সেরো সার্ভে। আর তাতে দেখা গিয়েছে, বস্তি এলাক
শেষ আপডেট: 29 July 2020 03:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্রে। এই রাজ্যের মধ্যে আবার আক্রান্ত সবথেকে বেশি মুম্বইয়ে। বাণিজ্য নগরীতে সংক্রমণের ছবিটা ঠিক কী, তা জানার জন্য হয়েছিল সেরো সার্ভে। আর তাতে দেখা গিয়েছে, বস্তি এলাকায় অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনাভাইরাসে।
মুম্বইয়ে বসবাসকারী ৭০০০ মানুষের মধ্যে হয়েছে এই সার্ভে। তাতে দেখা গিয়েছে শহর এলাকায় বসবাসকারী প্রতি ছ’জনের মধ্যে একজন অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অন্যদিকে বস্তি এলাকায় বসবাসকারী ৫৭ শতাংশ মানুষ এই ভাইরাসের কবলে পড়েছিলেন। ঘিঞ্জি এলাকায় থাকা, একই শৌচাগার ব্যবহার করার ফলেই তাঁদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে বলে খবর।
সাধারণত সেরো সার্ভেতে মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় সেখানে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা। আর অ্যান্টিবডি তখনই তৈরি হবে যখন কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে তারপর সুস্থ হয়ে উঠবেন। এই পরীক্ষা থেকে অবশ্য বোঝা যায় না, যে সাধারণ মানুষের মধ্যে কী পরিমাণে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তবে এই পরীক্ষা থেকে এটা বোঝা যায় যে কোনও জায়গায় মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে কিনা।
মুম্বইয়ে ১ লাখের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত। এই সংখ্যা দেশের প্রায় ৭ শতাংশ। সেইসঙ্গে এখানে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজারের বেশি মানুষের। মুম্বইয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ। তার মধ্যে ৬৫ শতাংশ মানুষ বস্তি এলাকায় বসবাস করেন। এছাড়া মুম্বই শহরের আশেপাশে আরও প্রায় ৬০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। আর তাই এই শহরে সেরো সার্ভে করার প্রয়োজনীয়তা ছিল।
নীতি আয়োগ, বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ও টাটা ইন্সটিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ একসঙ্গে মিলে এই সেরো সার্ভে করে। মুম্বইয়ের তিনটি ওয়ার্ড থেকে রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। তাতে দেখা যায়, অনেকের মধ্যেই এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা আক্রান্ত হয়েছিলেন। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে অ্যান্টিবডি বেশি বলে জানা গিয়েছে সার্ভেতে। এই সার্ভেতে আরও জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ আক্রান্তই উপসর্গহীন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুহার ০.০৫ শতাংশ থেকে ০.১০ শতাংশ।
মঙ্গলবার মুম্বইয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১৭ জন। দু’মাস পর এই শহরে আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবার এতটা কমেছে। এই মুহূর্তে বাণিজ্য নগরীতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৮৪৬। মঙ্গলবার আরও ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬১৮৪ হয়েছে।
গত সপ্তাহে রাজধানী দিল্লিতেও সেরো সার্ভে করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে এই শহরের ২৩.৪৮ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। এই সার্ভেতে আরও দেখা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশের শরীরে উপসর্গ ছিল না। ফলে এই সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল। মুম্বইয়েও উপসর্গহীন আক্রান্তই বেশি দেখা গেল।