ইরাকে ২০০ গণকবরে পাওয়া গেছে ১২ হাজার মানুষের দেহাবশেষ: রাষ্ট্রসঙ্ঘ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল, ৬ নভেম্বর, জেনিভাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতর ইরাক নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের উত্তর ও পশ্চিমের বিভিন্ন প্রদেশ যেমন সালাহ-আল-দীন,আনবার, কিরকুক এবং নিনেভ প্রদেশগুলিতে প্রায় দু'
শেষ আপডেট: 7 November 2018 08:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল, ৬ নভেম্বর, জেনিভাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতর ইরাক নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের উত্তর ও পশ্চিমের বিভিন্ন প্রদেশ যেমন সালাহ-আল-দীন,আনবার, কিরকুক এবং নিনেভ প্রদেশগুলিতে প্রায় দু'শোটি গণকবর পাওয়া গেছে। এবং এই সব গণকবরে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষকে কবর দিয়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠী। ২০১৪ সালে ইরাকের বিশাল অংশ ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর দখলে চলে আসে। ইরাকের বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিল ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠী। বুলডোজারের সাহায্যে গর্ত খুঁড়ে তার ভেতরে ফেলে দেয় নিহত হাজার হাজার মানুষের মৃতদেহ। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতে, এই গণকবরগুলি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দলিল। গণহত্যার ব্যাপ্তি ও হতভাগ্য মানুষদের পরিচয় জানতে ফরেন্সিক পরীক্ষার প্রস্তাব রাখা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আবু বকর আল বাগদাদীর নেতৃত্বাধীন ইসলামিক স্টেটের রাজধানী মসুল শহরের বাইরে এরকম গণকবরে পাওয়া গেছে প্রচুর দেহ। মরু শহর খাফসা'তেও একটি খাদে পাওয়া গেছে কয়েকশো মানুষের দেহাংশ। বেশিরভাগ মৃতদেহই সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গণকবরে পাওয়া পোশাক দেখে অনুমান করা হচ্ছে নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই হলেন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী,ইরাকের সামরিক এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্য। কবরগুলি থেকে প্রচুর শিশুর দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের পেশ করা প্রতিবেদনটিতে এই গণকবরগুলোর ফরেন্সিক পরীক্ষা, সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির ডিএনএ পরীক্ষা এবং আরও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। আজও ইরাকের কয়েক লক্ষ হারিয়ে যাওয়া শিশু, নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধার খোঁজ মেলেনি। হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁদের আত্মীয়-পরিজনরা।রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিবেদনে তাঁদেরকে সবরকম সাহায্যের কথা বলা হয়েছে।