
শেষ আপডেট: 4 September 2018 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া-বেহালা-রবীন্দ্র নগরের মিনিবাসটা হঠাৎ করে ভাসতে শুরু করল শূন্যে। হাওড়া থেকে বেহালার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। যে মাটিতে চাকা ছিল সেই মাটিই সরে গেল চাকার নীচ থেকে।
শুধু বাস? গাড়ি, মোটর সাইকেল মুহূর্তের মধ্যে টপাটপ পড়তে শুরু করল নীচের দিকে। যেন সিনেমা। আস্ত একটা ব্রিজ অসংখ্য মানুষকে নিয়ে ভেঙে পড়ল। দিনের ব্যস্ত সময়েই এই ব্রিজ বিপর্যয় শহর কলকাতাকে মনে করিয়ে দিল পোস্তার ভয়াবহ স্মৃতি। সে বার ছিল একেবারে উত্তরে। এ বার দক্ষিণে। কলকাতা থেকে বেহালার দিকে যাওয়ার সময় মাঝের হাট ব্রিজে ওঠার অংশ ভেঙে পড়ে নীচের খালে। আর এই ব্রিজ ভেঙে পরার পরই উঠতে শুরু করল প্রশ্ন। কেন? এ শহরে তো ভূমিকম্প হয়নি। তাহলে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সেতু এমনি এমনি ভেঙে পড়ে গেল?
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন এমনি এমনি নয়। তাঁদের অভিযোগ, মাঝেরহাটের ব্রিজ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেট্রো রেলের পিলার তৈরির কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেল।
কেন এমন অভিযোগ? যে অংশ ভেঙে পড়েছে, সেখান থেকে একশো ফুট দূরেই (বেহালার দিকে মুখ করলে) কাজ চলছে মেট্রোর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নীচে যেহেতু খাল, তাই পিলার শক্ত-পোক্ত করার জন্য ভিতও করা হয় অত্যন্ত গভীর। এবং সেই ভিতের কাজে ব্যবহৃত ভাইব্রেটরই সর্বনাশ করে দিল বলে মনে করছেন তাঁরা।
মাস দেড়েক আগে এই অংশে কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পরেই যখন ভিত খোঁড়া শুরু হলো সেই সময়ই মেট্রোর ইঞ্জিনিয়ারদের বলা হয়েছিল, পাশেই একটা ব্রিজ। যেভাবে কম্পন হচ্ছে তাতে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু বস্তিতে থাকা তথাকথিত ‘অশিক্ষিত’দের কথা উড়িয়ে দেন মেট্রো রেলের বড় বাবুরা। স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘একজন ইঞ্জিনিয়ার আমাদের উত্তর দিয়েছিল, কে ইঞ্জিনিয়ার? আমরা না তোমরা?” স্থানীয়দের বক্তব্য, রোজই পিলারের কাজ হতো। মেশিন চলার সময়তেই কেঁপে যেত গোটা এলাকা।
স্থানীয়রা বলছেন আরও বড় বিপদ হতে পারত এর পরের অংশটি ভাঙলে। এর পরের অংশের নীচেই শিয়ালদহ-বজবজ লাইন। ভেঙে পড়ার মুহূর্তেই বজবজ মুখী ট্রেন আসছিল। ওই অংশ ভেঙে পড়লে লাশের সংখ্যার শেষ থাকত না বলেই মত তাঁদের।
মঙ্গলবার বিকেল ৪ টে ৪০ নাগাদ ভেঙে পড়ে ব্রিজটি। পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সঙ্গে উদ্ধার কাজে হাত লাগান স্থানীয়রাও। তখন থেকেই অভিযোগের আঙুল উঠতে শুরু করে মেট্রোর বিরুদ্ধে। কিন্তু সন্ধে সাতটা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে দেখা মিল না মেট্রোরেলের কোনও পদস্থ কর্তার। যখন আশঙ্কা করা হচ্ছে ভেঙে পড়া অংশের নিচে আটকে থাকতে পারে মেট্রো প্রকল্পে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকরা, তখনও তাঁদের টনক নড়ল না।