সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই সেকেন্ড ডোজ নেওয়া যাবে, নির্দেশ কেরল হাইকোর্টের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলে করোনা (covid) বাড়ছে। সংক্রমণের কার্ভ শীর্ষ ছুঁয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত টিকাকরণ শেষ করার পরিকল্পনা করেছে সে রাজ্যের সরকার। সে জন্য কোভিডের সেকেন্ড ডোজ যাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেওয়া যায়, সে জন্য পিটিশন দাখিল হয়েছি
শেষ আপডেট: 7 September 2021 06:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলে করোনা (covid) বাড়ছে। সংক্রমণের কার্ভ শীর্ষ ছুঁয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত টিকাকরণ শেষ করার পরিকল্পনা করেছে সে রাজ্যের সরকার। সে জন্য কোভিডের সেকেন্ড ডোজ যাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেওয়া যায়, সে জন্য পিটিশন দাখিল হয়েছিল কেরল হাইকোর্টে (Kerala High Court)। বস্তুত, কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ১২ সপ্তাহের, তা আরও কমানো যায় কিনা সে নিয়ে আর্জি জানানো হয়েছিল। এই আর্জি খতিয়ে দেখে কেরল হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ভ্যাকসিনের সেকেন্ড ডোজ নেওয়া যাবে।
হাইকোর্টের বিচারপতি পি বি সুরেশ কুমার জানিয়েছেন, কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান ১২ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে চার সপ্তাহ করা যেতেই পারে। তবে কেউ ইচ্ছুক হলে ৮৪ দিনের ব্যবধানে সেকেন্ড ডোজ নিতে পারবেন। জনসাধারণের ইচ্ছার ওপরে সেটা নির্ভর করবে। বিশেষত, কর্মসূত্রে বা পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে যেতে ইচ্ছুক যাঁরা, তাঁরা চাইলে আগেই ভ্যাকসিনের ডোজ নিতে পারবেন। সে জন্য কোউইন অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের নিয়মেও বদল করা হবে।
১২ সপ্তাহের ব্যবধানে কোভিশিল্ডের দুটি ডোজ নিলে তা বেশি কার্যকরী হবে বলে দাবি করেছিল কেন্দ্রের ভ্যাকসিন এক্সপার্ট কমিটি। সময়ের ব্যবধান বেশি রাখলে ভ্যাকসিনের ডোজ বেশি কার্যকরী হবে বলে জানানো হয়েছিল। এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি তাঁর রায়ে বলেন, করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য এত সময় অপেক্ষা করার মানে হয় না। প্রয়োজন হলে সেকেন্ড ডোজ নেওয়ার সময় কমানো যেতে পারে। পুরোটাই জনগণের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে, তাঁরা সুরক্ষার জন্য আগে টিকা নিতে চান নাকি ভ্যাকসিনের এফিকেসি বিচার করে পরে নিতে চান।
নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতি পি বি সুরেশ বলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যদি বিদেশ যাত্রার জন্য মানুষকে ৮৪ দিনের আগে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সুযোগ দিতে পারে, তাহলে চাকরি বা শিক্ষার জন্য কেউ আগেভাগে টিকা নিতে চাইলে কেন সেই সুযোগ পাবেন না?
কেরলে কোভিডের সঙ্গেই নিপার উপদ্রব বাড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের সুরক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা রাজ্য সরকারের কাছে। ২৫ অগস্টের পরিসংখ্যাণ বলছে, গোটা দেশে মোট সংক্রমণের ৬৮% কেরল থেকে। ওই দিন সারা দেশে সংক্রমণের হার ছিল ২ শতাংশ, একমাত্র কেরলে সংক্রমণের হার তথা পজিটিভিটি রেট ছিল ১৯.৩ শতাংশ। কোভিড টেস্ট পজিটিভিটি রেট (TPR) বেড়ে যাওয়া মানে হল, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাওয়া। কেরলে এখন সেটাই হচ্ছে। শুধু তাি নয়, দেখা গেছে ৯৮ শতাংশ রোগীর শরীরেই করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে। কোভিডের ডেল্টা প্রজাতি কেরলে এত বেশি ছড়িয়ে পড়েছে যে সংক্রমণের হার তাই বেড়ে চলেছে। সে জন্য টিকাকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার চিন্তাভাবনাই করছে কেরল সরকার।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'