
শেষ আপডেট: 16 September 2021 13:33
থরথরে বিশ্বকর্মা ঠাকুর সাজানো কুমোরটুলির রাস্তার দুই ধারে। কিন্তু বেলা বাড়লেও খদ্দেরের ভিড় কোথায়? বড় বড় বিশ্বকর্মা ঠাকুরের দেখা মেলাই ভার কুমোরটুলির গলিতে। ছোট ছোট ঠাকুরের ভিড়ই বেশি। তবে পাঁচ-ছয় বছর আগেও এমন চিত্র ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে বড় বিশ্বকর্মা ঠাকুরের চাহিদা। আড়াই ফুটের ঠাকুরের চাহিদাই বেশি। সেই দিকেই ঝুঁকছেন খদ্দেররা।
কুমোরটুলিতে বিশ্বকর্মা ঠাকুরের চিত্রটা কেমন? "কুমোরটুলিতে বিশ্বকর্মা ঠাকুর তৈরি করে সেভাবে লাভ পাচ্ছে না শিল্পীরা। তাই শিল্পীরা গণেশ বা দুর্গা প্রতিমা গড়তেই বেশি আগ্রহী। আগে এই কুমোরটুলিতে ৫-৭ হাজার ঠাকুর তৈরি হত, এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে হাজার দুয়েক।" জানালেন কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সংস্কৃতি সমিতির জয়েন্ট সেক্রেটারি বাবু পাল।
১০ বছর বাড়ির ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন, অবশেষে প্রেমিকাকে বিয়ে কেরলের সেই যুবকের
কেন এমন অবস্থা? "সবেরই দাম বাড়ছে। মাটি থেকে খড়। কিন্তু সেভাবে আমরা দাম বাড়াতে পারছি না ঠাকুরের। কম লাভে তাই বিক্রি করতে হচ্ছে। তার ওপর আছে কর্মচারীদের পয়সা, সব কিছু মিটিয়ে লাভ নেই। যা ঠাকুর করা আছে তা বিক্রি করতে হবে তাই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।" বললেন মৃৎশিল্পী অশোক পাল। তবে তিনি আশাবাদী বিকেল গড়ালে খদ্দেরের সংখ্যা বাড়বে।
আশাটা অমূলক নয়, বিকেল গড়াতে খদ্দেরের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু পরিমাণ যে কমেছে আগের থেকে সে কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন এখানে আসা খদ্দেররা। বিগত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বকর্মা ঠাকুর কিনতে কুমোরটুলিমুখী হন প্রবীর দত্ত। কিন্তু তার কাছেও যেন এবারের কুমোরটুলি বেশ ফাঁকাই ঠেকছে।
"এত ফাঁকা থাকে না কুমোরটুলি। কাল বিশ্বকর্মা পুজো, আজ এখানে গম গম করে। গাড়ি লাগানোর জায়গা থাকে না। তবে এবার একদমই ফাঁকা।" জানালেন প্রবীর দত্ত। তবে দাম নিয়ে অভিযোগ নেই কারওই। সামান্য দাম বাড়লেও তা সামঞ্জস্যের মধ্যে আছে বলে মত খদ্দেরদের। "যেটুকু দাম না বাড়ালেই নয় তা বেড়েছে, সেটা না দিলে এঁদের চলবে কী করে।" এমনই মত সঞ্জীব চৌধুরীর।
"দেখতেই পাচ্ছ খদ্দের নেই। চাহিদা কমে গেছে অনেকদিনই। বিক্রি না হলে কারিগরদের পয়সা দেব কোথা থেকে আর আমরাই বা খাব কোথা থেকে। তাই আর বেশি ঠাকুর গড়িনি। বেঁচে গেলে রাখব কোথায়? জায়গা নেই। বেঁচে গেলে তা গঙ্গার জলে ফেলে দিতে হবে।" আক্ষেপের সুরে বললেন মৃৎশিল্পী অখিল পাল।
কুমোরটুলিতেই দীর্ঘদিন পসার সাজিয়ে বসেন সুকুমার সুরাই। তাঁর কথায়, "চাহিদা একদমই নেই। যে কটা ঠাকুর তুলেছি, তা বিক্রি করতেই হবে। সেই আশাতেই আছি।" লাভ না উঠলেও আসলটা তোলার জন্য খদ্দেরের অপেক্ষায় শিল্পীরা।
এবছর যেন এই চেনা চিত্রের ক্যানভাস কোথাও গিয়ে ফিকে হয়ে গেছে। উত্তর কলকাতা শোভাবাজারের রবীন্দ্র সরনী। না অনেকের কাছেই চেনা নয় এই রাস্তার নাম, তবে কুমোরটুলি বলে এক নামে চেনেন। পুজোর আগে কুমোরটুলির ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। তবে এবারে এই গলিতে শিল্প আছে, শিল্পী আছেন, কিন্তু ভিড়ের ঠেলা নেই, খদ্দেরের হাঁকডাক নেই। এমনই চিত্রই ফুটে উঠল বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিনের কুমোরটুলির ক্যানভাসে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'