দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় ফের ফেসবুক লাইভ করে আত্মহত্যার চেষ্টা। ফের লালবাজারের তৎপরতায় প্রাণ বাঁচল যুবকের।
শনিবার গভীর রাতে লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে ফোন আসে। এক যুবক উত্তেজিত গলায় পুলিশকে জানান, তাঁর এক বন্ধু ফেসবুকে লাইভ করে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। কিন্তু তিনি এও বলেন, ওই বন্ধুর বাড়ির সঠিক ঠিকানা জানেন না। শুধু এটুকু জানেন, তাঁর বাড়ি গরফায়।
তোলপাড় পড়ে যায় লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে। মুহুর্তের মধ্যে ফোন যায় গরফা থানায়। আত্মহত্যার পথে হাঁটতে থাকা যুবকের ফেসবুক প্রোফাইল ট্র্যাক করে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল যোগাযোগ করে তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে। মিনিট কয়েকের মধ্যেই পুলিশের হাতে চলে আসে যুবকের ঠিকানা। আর তার মিনিট ১২-র মধ্যে গরফা থানার আইসি শৌভিক দাসের নেতৃত্বে পুলিশ যায় যুবকের বাড়িতে। অবশেষে তাঁকে আত্মহত্যা করা থেকে নিরস্ত করে পুলিশ।
কেন আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলেন ওই যুবক তা এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। তবে প্রাথমিক অনুমান, মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যুবক। তাঁর নাম-ঠিকানা গোপন রেখেছে পুলিশ। ওই যুবকের কাউন্সেলিং চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দু’মাস আগে পিকনিক গার্ডেনের এক যুবককে এ ভাবেই বাঁচিয়েছিল লালবাজার। এরপর গত ২৯ জানুয়ারি অসমের গুয়াহাটির এক গৃহবধূকে। ফেসবু কর্তৃপক্ষ সেবার যোগাযোগ করে লালবাজারের সঙ্গে। পূর্ব ভারতেরব বাহিনী হিসেবে জুকারবার্গের সংস্থা জানায় লালবাজারকে। ওই আইডি খুলে দেখতে পান, এক মহিলা গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে টুলের উপর উঠছেন। তারপর সিলিং ফ্যানে শাড়ি বেঁধে দিচ্ছেন কষে। হাত দিয়ে টেনে পরখ করে নিচ্ছেন শক্ত করে বাঁধা হয়েছে কিনা। ওই আইডি ট্র্যাক করেন গোয়েন্দারা। মিনিট খানেক পেরনোর আগেই গোয়েন্দারা জানতে পারেন ওই অ্যাকাউন্টটি গুয়াহাটি থেকে অপারেট হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় গুয়াহাটি কমিশনারেটে। গুয়াহাটি কমিশনারেট যোগাযোগ করে চ্যাংসারি থানার সঙ্গে। ওই মহিলা যে আবাসনের বাসিন্দা সেটি ওই থানা এলাকাতেই।
এরপর সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকরা একটি বহুতলে পৌঁছে ওই মহিলার আত্মহত্যা রুখে দেন। আরও একবার নজির গড়ল লালবাজার।