
শেষ আপডেট: 3 May 2019 18:50
কেউ ঢাকুরিয়া তো কেউ যাদবপুর, কেউ টালিগঞ্জ তো কেউ বাঁশদ্রোণী। কয়েক হাজার পোস্ট জ্বলজ্বল করছে ফেসবুকে। প্রত্যেকেই নিজের বাড়ির এলাকা জানিয়ে ফোন নম্বর দিয়ে দিয়েছেন। কারও সামর্থ পাঁচ জন তো কেউ বলেছেন লম্বা ঘরে ঢালাও বিছানা করে দশ-বারোজনকে আশ্রয় দিতে পারবেন। দু'মুঠো চাল-ডাল ফুটিয়ে খেয়ে ঠিক কেটে যাবে বলে প্রত্যয়ী তাঁরা।
ঝড় আসার অনেক আগে থেকেই শুনশান কলকাতা। দুপুরের পরই বন্ধ হয়ে যায় সাউথসিটি, সিটি সেন্টারের মতো শপিংমল। কার্যত বনধের চেহারা নিয়ে নেয় শহর কলকাতা। ফণী আতঙ্কে বাড়ির পথেই সবাই। এর মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা হোস্টেল খুলে রাখার কথা ঘোষণা করে। জানিয়ে দেয় বিপদে পড়লে সঙ্কোচ না করে পৌঁছে যেতে। সেই পথে হাঁটে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ও। জানিয়ে দেয়, কেউ বিপদে পড়লে হিন্দু হস্টেলের দরজা খোলা সবার জন্য।
পোস্তায় উড়ালপুল ভেঙে পড়ার এক ঘণ্টার মধ্যে গণ রক্তদান শিবির আয়োজন করেছিল এই শহরের তরুণ প্রজন্ম। নাম দিয়েছিল রক্তের সেতুবন্ধন। আরও একবার কলকাতা দেখিয়ে দিলো, এ শহরে মানবিকতার মৃত্যুর নেই। শালিক নয়, এ শহরের কলিজা বাজ পাখির মতো চওড়া।