দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিবসেনা তথা মহারাষ্ট্র সরকার বনাম কঙ্গনা রানাওয়াতের গণ্ডগোলের আঁচ এই রাজ্যেও এসে পৌঁছল। অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের নাম নিয়ে শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে টালিগঞ্জ থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশ।
জানা গিয়েছে, ওই যুবকের নাম পলাশ বসু। ৪০ বছরের পলাশ একটি জিমের প্রশিক্ষক। তিনিই ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সঞ্জয় রাউতকে ফোনে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। ফোনের আইপি অ্যাড্রেস দেখে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুম্বই পুলিশ। তারপরেই বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় পলাশকে। তাঁর মোবাইল ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়। পলাশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতকে মুম্বই নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করবে মুম্বই পুলিশ, এমনটাই জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই জানিয়েছে পলাশের পরিবার। তাঁর আইনজীবীর দাবি, পলাশ কোনও দিনই কঙ্গনার ভক্ত নন। তাহলে কেন শিবসেনা সাংসদকে হুমকি দেবেন তিনি। তাঁর দাবি, অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি মুম্বই পুলিশ। জোর করে গ্রেফতার করা হয়েছে পলাশকে।
কঙ্গনার সঙ্গে সঞ্জয় রাউতের গণ্ডগোলের সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পরে মুম্বইকে ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীরের’ সঙ্গে তুলনা করেন অভিনেত্রী। তাতেই চটে যান সঞ্জয়। তিনি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে বলেন, যেমনভাবে কঙ্গনা রানাওয়াত মুম্বইকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করেছেন, তাঁর কি সাহস রয়েছে আহমেদাবাদকে মিনি পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করার। তিনি বলেন, “যদি ওই মেয়েটা (পড়ুন কঙ্গনা) মুম্বই ও মহারাষ্ট্রকে মিনি পাকিস্তান বলার জন্য ক্ষমা চান, তাহলে আমরা ভেবে দেখব। তাঁর কি সাহস রয়েছে একই কথা আহমেদাবাদের নামে বলার?”
সঞ্জয় রাউতের এই কথায় চটে বিজেপি। গুজরাতের বিজেপির মুখপাত্র ভরত পান্ডিয়া জানিয়েছেন শিবসেনা নেতা আহমেদাবাদকে মিনি পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করে গুজরাত রাজ্যকে অপমান করেছেন। তিনি বলেন, “সঞ্জয় রাউতের উচিত গুজরাত, আহমেদাবাদ ও এখানকার বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”
এর মধ্যেই সঞ্জয় হুঁশিয়ারি দেন, কঙ্গনা যদি ক্ষমা না চান, তাহলে তাঁর মুম্বইয়ে থাকার কোনও অধিকার নেই। যদিও শিবসেনা সাংসদের এই হুঁশিয়ারির জবাবে কঙ্গনা বলেন, “সঞ্জয় রাউত বলেছেন, আমাকে মুম্বইয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ওনার লোকেরা আমাকে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু এভাবে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।”
শিবসেনার সঙ্গে কঙ্গনার এই বিতর্কের মাঝে আসরে নামে কেন্দ্র। অভিনেত্রীর বাবার আবেদনের ভিত্তিতে কঙ্গনাকে ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেয় কেন্দ্র। এরমধ্যেই তাঁর অফিসে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে অভিযোগ তুলে কঙ্গনার অফিস ভাঙে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। যদিও বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশে সেই কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বিএমসি। এর মাঝেই এবার কলকাতার টালিগঞ্জ থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশ।