দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের গর্ভ ভাড়া দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠল কলকাতায়। শুধু তাই নয়, ছ'মাসের মাথায় গর্ভস্থ ভ্রূণকে হত্যা করারও অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই তরুণী ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, সন্তানের জন্য এক ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গিয়েছিলেন এক দম্পতি। সেখানেই সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণের কথা বলা হয় তাঁদের। রাজিও হয়ে যান তাঁরা। সেইমতো মথুরাপুরের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁদের। গর্ভ ভাড়া বাবদ তাঁকে ১২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। গর্ভধারণও করেন ওই তরুণী। প্রথম ছ'মাস নিয়মিত ওই দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তরুণীর। কিন্তু ছ'মাস পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই দম্পতি।
পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক দিন তল্লাশি চালানো পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ধরা পড়েন ওই তরুণী। তখন তিনি জানান অসাবধানতায় গর্ভপাত হয়ে গিয়েছে তাঁর। তাই ভয়ে ওই দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন না। কিন্তু তরুণীর কথায় অসঙ্গতি দেখেন পুলিশ আধিকারিকরা। তরুণীর এক প্রেমিকের খবর পাওয়া যায়। তাঁকেও থানায় নিয়ে এসে জেরা করা হয়। তারপরেই পুরো ব্যাপারটা বোঝা যায়।
সূত্রের খবর, জেরায় ওই যুবক জানান, তরুণী তাঁর কাছে এসে বলেছিলেন, দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছে। এই অবস্থায় সন্তান চান না তিনি। তারপরেই দু'জনে মিলে ডায়মন্ডহারবারের একটি নার্সিংহোমে যোগাযোগ করেন। সেই নার্সিংহোমের মালিক আর একটি নার্সিংহোমের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর দু'জনে মিলে তরুণীর গর্ভপাত করান। এরপরেই দুই ডাক্তারের খোঁজ শুরু করে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুই ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেআইনিভাবে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে তাঁদের নার্সিংহোম দুটিকেও সিল করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের লাইসেন্সও কেড়ে নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে তরুণী ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে ছ'মাসের পরে ভ্রূণহত্যা ও আর্থিক প্রতারণার জোড়া অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তরুণী ও তাঁর প্রেমিকের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের জেল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।