দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত। বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তবে বড় কোনও অসুস্থতার খবর ছিল না। বৃহস্পতিবার বেশি রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর জানা যায় আচমকা।
শর্বরী দত্তের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, গতকাল সকাল থেকেই তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও অনেকে পাননি। এর পরেই গভীর রাতে তাঁর ব্রড স্ট্রিটের বাড়ির শৌচাগারে দেহ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ, হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন তিনি। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখছে।
নিজের বাড়িতে ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে থাকতেন শর্বরী। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সারা দিনই তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়নি শর্বরীর। ১৬ তারিখ লাস্ট ডিনারে মায়ের সঙ্গে দেখা বলে জানিয়েছেন ছেলে। তার পরে ১৭ তারিখ গোটা দিন কাটার পরে গভীর রাতে এই ঘটনা। শৌচাগারের দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে মৃত্যুর কারণ বুঝতে।
চিকিৎসক জানিয়েছেন,বাথরুমে তার দেহের পাশে রক্ত পড়ে ছিল। কানের পাশেও একটি ক্ষতচিহ্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসক। সেটা পড়ে যাওয়ার কারণেও হতে পারে। তবে দেহ কতক্ষণ সেখানে পড়ে ছিল তা জানা যায়নি।
চোখের নিচে পুরু কাজল। কানে, গলায় ভারী রুপোর গয়না, নাকে পেল্লাই নথ। আঙুলে বেশ কয়েকটি আংটি। ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত বলতে এই চেহারাটাই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সঙ্গী ছিল সর্বক্ষণের হাসিমুখ। প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায় পৌঁছেও প্রাণশক্তির অভাব হয়নি কখনও।
নয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় অন্য ধারা নিয়ে কাজ শুরু করেন শর্বরী। অনেকের মতে, ভারতে তখন পুরুষদের ফ্যাশন নিয়ে সে ভাবে কোনও কাজই হতো না। ঠিক সেই জায়গাটাতেই অভিনব ভাবনা নিয়ে আসেন শর্বরী।
বিশেষ করে ধুতির ফ্যাশনে সারা দুনিয়া এক নামে চিনত তাঁকে। রঙিন ধুতির পাড়ে কাঁথা স্টিচ বা রাজস্থানী প্রিন্ট-- এসবের সৃষ্টি ছিল তাঁরই। বিভিন্ন দেশের লোক সংস্কৃতিকে পোশাকে ফুটিয়ে তুলতেন শর্বরী। তার মধ্যে অন্যতম ছিল মিশরীয় সভ্যতা। ২০০৮ সাল নাগাদ তাঁর ধুতি পাঞ্জাবির উপর ইজিপ্ট ঘরানার কারুকার্য করে আন্তর্জাতিক পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি।
টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির একাধিক অভিনেতা তাঁর ডিজাইন করা পোশাকে বিয়ে সেরেছেন। সম্প্রতি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ওয়েডিং কস্টিউমও তৈরি করেছিলেন শর্বরী। জয়া বচ্চন তাঁর বিশেষ ভক্ত ছিলেন, গোটা পরিবারের জন্য পোশাক ডিজাইন করার বরাত দিতেন শর্বরীকেই।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বছর কয়েক আগে ব্র্যান্ডের নাম নিয়ে ছেলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল শর্বরীর। ব্যবসায়িক কারণ নিয়েই চলছিল মা-ছেলের মামলাও। কয়েক বছর আগে পারিবারিক ব্যবসা ছেড়ে নিজের স্টোর খোলেন শর্বরী, নাম দেন 'শূন্য'। সে সবই শূন্য করে দিয়ে অকালে চলে গেলেন শর্বরী দত্ত। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ফ্যাশন জগতে ও টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে।