দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই দিল্লির বাইরে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ২৪ ঘণ্টা পরেই কলকাতায় তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক করতে এলেন পাঞ্জাবের শিরোমণি অকালি দলের প্রতিনিধিরা। তৃণমূল ভবনে হয় এই বৈঠক। বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কৃষকদের পাশে তাঁদের দল রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার ডাকা বনধকে নৈতিক সমর্থন করলেও তৃণমূল সেদিন বনধ করবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কৃষকরা যে আন্দোলন করছে তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। আগামী দিনে যদি এক সঙ্গে কাজ করতে হয় করবো। যদি এক সঙ্গে রাজ্যপাল এর কাছে যেতে হয় তাহলেও আমরা যেতে রাজি আছি। কারণ, আমরা কৃষকদের কষ্ট বুঝি, কারণ আমরা সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম এর আন্দোলন করেছি। তাই গোটা দেশে যখন কৃষকদের জন্য একটা কঠিন সময়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর চুপ থাকবেন না। আমরা চাই কৃষি বিল প্রত্যাহার করে নতুন করে এই বিল তৈরি করা হোক।”
আগামী মঙ্গলবার কৃষকদের ডাকা ভারত বনধকে নৈতিক সমর্থন করলেও তৃণমূল বনধে যোগ দেবে না বলেই জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, “বনধের ইস্যুতে আমাদের নৈতিক সমর্থন রয়েছে। তবে আমাদের নীতি আমরা রাস্তায় বনধ করি না। ওই দিন গান্ধীমূর্তির পাদদেশে দলের প্রোগ্রাম আছে। কৃষকদের সমর্থনে তিন দিন চলবে সেই প্রোগ্রাম।”
অন্যদিকে অকালি দলের সহ সভাপতি ও মুখপাত্র তথা দলের প্রাক্তন সাংসদ প্রেম সিং চন্দুমাজরা বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের এখন উচিত একসঙ্গে আশা। কৃষকদের এই আন্দোলনে আমরা চাই সমাজের সমস্ত শ্রেনীর মানুষ রাস্তায় নেমে আসুক। আমরা চাই দেশে উন্নয়ন এবং শান্তি থাকুক।”
গতকালই তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে সিংঘু বর্ডারে গিয়ে একাধিক কৃষক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। ডেরেকের ফোন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কথা বলেন পাঞ্জাব হরিয়ানার একাধিক কৃষকের সঙ্গে।
মুখ্যমন্ত্রী ফোনে বলেন, "কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমি ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। আপনারা যে আন্দোলন করছেন তাকে সংহতি জানাচ্ছি। আপনাদের আমি বলব, যতক্ষণ না এই কালা আইন কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করছে, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যান।" তিনি আরও বলেন, "অত্যাবশকীয় পণ্য আইন নিয়েও আপনারা সরব হোন। এই আইনের ফলে মানুষের সর্বনাশ হচ্ছে।"
কৃষি আইন নিয়ে শুরু থেকেই সরব তৃনমূল। অন্যান্য বিরোধী দলগুলির মতো বাংলার শাসকদলেরও বক্তব্য, কর্পোরেটের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দেশের অন্নদাতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। এর আগে বাংলায় এর বিরুদ্ধে আলে আলে দিবসও পালন করেছিল তৃণমূলের কৃষক সেল।
অন্যদিকে এই বিল আইনে পরিণত হওয়ার সময়েই এনডিএ জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল পাঞ্জাবের অন্যতম রাজনৈতিক দল অকালি দল। দলের নেত্রী তথা তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল বলেছিলেন, কৃষকদের স্বার্থে তাঁদের পাশে থাকতে চান তাঁরা। তারপর থেকে ক্রমাগত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তারা।
এদিনই আবার তৃতীয়বারের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে কৃষক সংগঠনগুলি। যদিও সেখান থেকে বিশেষ কিছু সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কারণ নিজেদের মূল দাবি থেকে সরতে নারাজ কৃষকরা। তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার না হলে আন্দোলন থামাবেন না তাঁরা। আর তার মাঝেই একের পর এক বিরোধী দলের সমর্থন পাচ্ছেন তাঁরা।