দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউ আলিপুরের অভিজাত পরিবারের নাবালিকার রহস্যমৃত্যুর পর পাঁচ দিন কেটে গিয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও চলে এসেছে পুলিশের কাছে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সেই রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১০ বছরের মেয়েটিকে খুন করা হয়েছে। অর্থাৎ ভয় পেয়ে মৃত্যুর যে কথা পরিবারের লোক বলেছিল তা ভিত্তিহীন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে সরু কিছু ব্যবহার করে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা হয়েছে মেয়েটিকে। যে কারনে গলার কাছে একটি দাগ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু কেন এই খুন, সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গত শুক্রবার বিকেলে নিউ আলিপুরের ই ব্লকের বাসিন্দা এই নাবালিকাকে তার পরিবারের লোক অচৈতন্য অবস্থায় নিয়ে যায় বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনা সামনে আসে রবিবার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরিবারের লোকজনকে যখন জিজ্ঞাসা করেন, কী ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ল মেয়েটি? তখন নাকি পরিবারের লোকজন চিকিৎসকদের বলেন, হঠাৎই কিছু একটা দেখে ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। কিন্তু মৃত্যুর ধরন ও পরিবারের লোকজনের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মধ্যেও। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় দেহ। তাৎপর্যপূর্ণ হল, দেহ যাতে ময়নাতদন্তের জন্য না পাঠানো হয় তার জন্য চিকিৎসকদের বারবার অনুরোধ করে পরিবারের লোক।
কিন্তু কে খুন করল মেয়েটিকে?
এ বিষয়ে পুলিশ কোনও মন্তব্য না করলেও প্রশাসনেরই একটি সূত্রে বলা হচ্ছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তকারী অফিসারদের হাতে এসেছে। তার মধ্যে অন্যতম, পুলিশ জানতে পেরেছে, এক যুবক নিয়মিত এই বাড়িতে যাতায়াত করত। তিনি এই পরিবারের কেউ নন বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। তা ছাড়া নিউ আলিপুরের ই ব্লকের বাড়ির নীচের অংশটি একটি অফিসকে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। সেখানকার এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও পুলিশ বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবারই দফায় দফায় পরিবারের লোককে নিউ আলিপুর থানায় বসিয়ে জেরা করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের লোকজন তাঁদের বলেছেন, মেয়েটির স্নায়ুরোগ ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল বলেও জানানো হয়েছিল পুলিশকে। যদিও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুলিশ এ কথা জানিয়েছিল, পরিবারের কথার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে। যা পুলিশের সন্দেহকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। এদিন ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, খুন করা হয়েছে মেয়েটিকে।