দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় মেট্রো চালানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। বলেছিলেন, বিধি মেনে যত সিট তত যাত্রী নিয়ে মেট্রো চালানোর ব্যাপারে রাজ্য সরকার মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবে।
সোমবার নবান্নে মেট্রো রেলের তিন আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকের পর ১ জুলাই থেকে মেট্রো চালানোর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং পুরোটাই অনিশ্চিত।
নবান্ন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, মেট্রো কর্তারা এদিন রাজ্য সরকারকে জানিয়েছেন, মেট্রো রেল চলবে কি চলবে না এই মৌলিক সিদ্ধান্ত একা কলকাতা মেট্রো নিতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেবল রেলমন্ত্রকই। তাঁরা রাজ্য সরকারকে বলেছেন, নবান্নের তরফে যেন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। গত সপ্তাহেই রেলমন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১২ অগস্ট পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন বাদ দিয়ে সমস্ত প্যাসেঞ্জার এবং এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও তাতে মেট্রোর কোনও উল্লেখ ছিল না।
সরকারি সূত্রে খবর, মেট্রো কর্তারা নবান্নকে আরও জানিয়েছেন, যত সিট তত যাত্রী নিয়ে মেট্রো চালানোর বন্দোবস্ত করতে যে পরিকাঠামো লাগবে তা এত দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব নয়। প্রতিটি স্টেশনের সমস্ত গেটে পর্যাপ্ত আরপিএফ মোতায়েন করা বা স্টেশনের ভিতরে নিরাপত্তাকর্মীদের রাখতে হবে। তা এত অল্প সময়ে সম্ভব নয়। তা ছাড়া গড়িয়া থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত সবকটি স্টেশন স্যানিটাইজ করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মেট্রো কর্তারা।
গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "কলকাতা মেট্রোর সঙ্গে আমরা কথা বলব। যদি তাঁরা মেট্রো চালাতে পারেন আমাদের কোনও আপত্তি নেই। যত সিট তত জনকে ঢুকতে দিতে পারার ব্যবস্থা করতে অসুবিধে হবে না। তবে মাখামাখি করা যাবে না। ভাল করে স্যানিটাইজ করে ১ জুলাই বিধান রায়ের জন্মদিন থেকে মেট্রো চালানো যেতে পারে।”
এ মাসের ৮ তারিখ থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে কাজ শুরু হয়েছে। ফলে রাস্তায় বিপুল পরিমাণ মানুষ বেরোতে শুরু করেছেন। সেই তুলনায় বাস নেই। বেশি করে সরকারি বাস চালালেও ভাড়ার জটিলতায় বেসরকারি বাস ও মিনিবাসের অধিকাংশই রাস্তায় নামেনি। তার উপরে মেট্রো না চলার ফলে, বাসের উপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারের অনেকের মতে, মেট্রো চালু হলে বাসের উপরও চাপ খানিকটা কমবে। সেই জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনিশ্চয়তা রয়েই গেল।