
শেষ আপডেট: 1 June 2019 07:12
ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলানটারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সম্পাদক অপূর্ব ঘোষ জানিয়েছেন, গত বছর এপ্রিল, মে, জুন-এই তিন মাসে ৩৯ টি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল তৃণমূল। গত কাল শনিবার পর্যন্ত এ বার এই তিন মাসে মাত্র ১ টি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছে তারা।
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ২০১৮ সালের এপ্রিল, মে, জুন মাসে কলকাতার ৫ টি মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কগুলো ৯২ টি রক্তদান ক্যাম্প করেছিল। এ বছর এখনও পর্যন্ত চল্লিশটিও শিবির হয়নি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। রক্তল্পতায় ভুগতে শুরু করেছে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোই।
তা হলে কী ভাবে চলছে?
সংগঠনের কর্তারা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে ব্যক্তিগত ভাবে রক্তদান ও সংগ্রহের মাধ্যমে। রোগীর পরিবারের লোকেরা নিজেরাই ডোনার যোগাড় করে রক্তের ব্যবস্থা করছেন। এক ইউনিট রক্ত থেকে উপাদানগুলি আলাদা করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অপূর্ববাবুর কথায়,"গত ৪৩ বছর ধরে রক্তদানের সঙ্গে জড়িত রয়েছি। এমন পরিস্থিতির সন্মুখীন কখনও হতে হয়নি। রাজনৈতিক আকচাআকচিতে ক্যাম্পই শুরু করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি খুবই সঙ্কটজনক। ডামাডোলে রক্ত সঙ্কট বাড়ছে”।
রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ডি আশিসের কথায়, “সকলের উচিত এ সময়ে এগিয়ে আসা। না হলে মুমূর্ষু রোগীরা প্রাণ হারাতে পারেন রক্তের অভাবে।”
এ দিকে ভোট শেষ হতেই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে নিজে রক্ত দিয়েছেন বাঁকুড়ার নতুন সাংসদ সুভাষ সরকার। সুভাষ বাবু নিজে পেশায় ডাক্তার। তিনি তাঁর নিজের এলাকায় আরও রক্তদান শিবির আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এটাকেই উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরতে চান অপূর্ব। তিনি বলেন, “সুভাষবাবুকে অনুসরণ করা উচিত। তা হলে দ্রুত পরিস্থিতি শুধরে নেওয়া যাবে।”
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা বলেন, “সব কিছু সকলেই দেখছেন। ভোট শেষ হওয়ার পর কেউ জিতে রাস্তায় নেমেছেন। কেই হেরে রাস্তায় নেমেছেন। ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প করতে এখনো কেউ রাস্তায় নামেননি। আমরা অপেক্ষায়!"
আবার তৃণমূলের নব নিযুক্ত এক মুখপাত্র বলেন, “ভোটের জন্য ছেলেরা ব্যস্ত ছিল ঠিকই। তবে ওদের বলতে হবে না, যেই জানবে রক্তের সংকট চলছে, পাড়ায় পাড়ায় রক্তদান শিবির আয়োজনে নেমে পড়বে”।