দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন মা। ছেলেটা স্কুল থেকে এলে ভাত বেড়ে দেবেন। যে সময় স্কুল থেকে ফেরে সেই সময়ই ঘটে গিয়েছে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আর তারপর থেকে রাত অবধি বাড়িতে আসেনি ছেলে।
সব হাসপাতাল তন্নতন্ন করে খুঁজে ফেলেছেন বছর পঞ্চাশের মহম্মদ ইউসুফ। ছেলেকে খুঁজে পাননি। রাত সওয়া আটটা নাগাদ আসেন ঘটনাস্থলে। বিধ্বস্ত। পাগল পাগল অবস্থা। ছেলেটার নাম বলতেও থমকাচ্ছেন। কোন স্কুল, কোন ক্লাস কিচ্ছু বলার মতো অবস্থায় নেই। অনেকবার জিজ্ঞেস করায় বলেছেন, ছেলের নাম মহম্মদ হেদায়াত।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার কাজ। দমকল, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা দল সেই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছেন। রাত হয়েছে। লাগানো হয়েছে আলো। আনা হয়েছে এফসিবি। স্ল্যাব সরানোর কাজ চলছে বৃষ্টির মাঝেই। ওই অংশ না সরালে নীচে কেউ আটকে রয়েছে কিনা বোঝা সম্ভব নয়। রাত পৌনে নটা নাগাদ ডিজ্যাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ দাবি করে, একটি ফাঁক দিয়ে মশারি, কাপড় দেখা যাচ্ছে। নির্মাণ-শ্রমিক ঝুপড়ির বাসিন্দারা সেগুলি মেলেছিল কি না নাকি ওখানেও কোনও ঘর ছিল, সেটা ভিতরে না পৌঁছনো পর্যন্ত জানা সম্ভব নয়।
উদ্ধারকারী দলের তরফে জানানো হয়, এমনভাবে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে তাতে কোন অংশ দিয়ে নীচে যাবেন সেটাই বুঝতে পারছেন না তাঁরা। বেহালার দিকে মুখ করলে বাঁদিকে একটি ফাঁক দিয়ে স্ল্যাব সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।