দ্য ওয়াল ব্যুরো: শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত.....গত কয়েক মাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চায় থাকা অন্যতম তিন নাম। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, তাঁর ‘বিশেষ বন্ধু’ অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজারহাটের বিধায়ক তথা বিধাননগরের তৃণমূলের মেয়র সব্যসাচী দত্তকে একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। আর এই আমন্ত্রণের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল জল্পনা। কিন্তু সব জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে এক জন এলেন না। বাকি দু’জন এসেও বেরিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানই বন্ধ করে দিতে হলো।
বেঙ্গল থিঙ্কস নামের একটি সংগঠনের আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল সব্যসাচী, শোভন ও বৈশাখীকে। আলোচনা সভার নাম ছিল ‘দ্য ইন্টারফেস অফ রিলিজিয়ন, স্পিরিচুয়ালিটি অ্যান্ড পলিটিকস ইন টুডে’জ বেঙ্গল’। সংগঠনের তরফে ছাপানো আমন্ত্রণপত্রে তিন জনেরই নাম ছিল। আর তার পরেই ফের জল্পনা শুরু হয়, বিজেপি ঘেঁষা এই সংগঠনের অনুষ্ঠানে এসে তা হলে কি বিজেপি যোগের জল্পনা জিইয়ে রাখলেন তিন জনেই।
কিন্তু আদতে দেখা গেল অন্য ছবি। অনুষ্ঠানেই এলেন না সব্যসাচী। শোভন-বৈশাখী এসে দেখেন মঞ্চের নীচে বসে রয়েছেন কিছু বিজেপি নেতা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শিশির বাজোরিয়া ও অম্বুজ মোহান্তি। এই অম্বুজ মোহান্তি তমলুকে উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের দেখেই শোভন কিছু না বলে বেরিয়ে যান। বৈশাখী বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল এটি অ্যাপলিটিক্যাল অনুষ্ঠান। কিন্তু আমি এসে দেখলাম একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাই আমার পক্ষে এখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।” ফলে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটিই বন্ধ হয়ে যায়।

গত কয়েক মাস ধরে বিধাননগরের মেয়রকে নিয়ে দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে। এই জল্পনা আরও বেড়ে যায়, যেদিন বিজেপি নেতা মুকুল রায় সব্যসাচীর সল্টলেকের বাড়িতে যান। যদিও সব্যসাচীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুকুল বলেন, লুচি-আলুর দম খেতেই সব্যসাচীর বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে সব্যসাচীও বলেন, নিছকই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন মুকুল। কিন্তু তারপরেও জল্পনা চলতে থাকে। এমনকী এই সাক্ষাতের পর তড়িঘড়ি বিধাননগরের সব কাউন্সিলারদের বৈঠকও ডাকেন মমতা। কিন্তু সেই বৈঠকে সবাইকে চমকে দিয়ে হাজির হন সব্যসাচীও। তাঁকেই বিধাননগরের মেয়রের পদে বহাল রাখে তৃণমূল। তারপরেও কয়েকদিন আগে হোলির অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান তুলেছিলেন সব্যসাচী।
অন্য দিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়তে থাকে, যেদিন থেকে তাঁর ‘বিশেষ বন্ধু’ হিসেবে অবতীর্ণ হন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈশাখীকে নিয়ে শোভন ও তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে বিভেদ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেন শোভন। রাজনৈতিক মহলে এও শোনা যায়, শোভন-বৈশাখী বিজেপিতে যোগ দেবেন। কিন্তু সব জল্পনা দূর করে সাংবাদিক সম্মেলন করে বৈশাখী বলেন, “শোভনদা এখনও তৃণমূলেই আছেন। আমিও কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছি না।”
কিন্তু তার পরেও বেঙ্গল থিংকসের এই অনুষ্ঠানে তিন জনের আসার খবরে জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। কিন্তু সব জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন তিন জনেই।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-mukul-roy-accuses-mamata-banerjee-as-main-beneficiary-of-saradha-chit-fund/