কেন্দ্রীয় হারে বেতনের দাবিতে কলকাতায় বিশাল মিছিল প্রাথমিক শিক্ষকদের, পরশু বৈঠক শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর দাবি নিয়ে এমনিতেই নাজেহাল নবান্ন। তার উপর এ বার বেতন বাড়ানোর দাবিতে প্রবল চাপ তৈরি শুরু করে দিলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। শুক্রবার ওই দাবি নিয়ে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্
শেষ আপডেট: 23 November 2018 11:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর দাবি নিয়ে এমনিতেই নাজেহাল নবান্ন। তার উপর এ বার বেতন বাড়ানোর দাবিতে প্রবল চাপ তৈরি শুরু করে দিলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। শুক্রবার ওই দাবি নিয়ে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিশাল মিছিল করেন তাঁরা।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বক্তব্য, তাঁদের বেতনের হার খুবই কম। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সঙ্গে বঞ্চনা হচ্ছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব টিচার্স এডুকেশন প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য হারে বেতনের প্রস্তাব করেছে বাংলায় তাঁরা তা পান না। রাজ্য সরকারের অনুদানে চলা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেতনের অনেক ফারাক রয়েছে। রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামো হল ৫৪০০-২৫২০০ টাকা। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য কেন্দ্রের পে-ব্যান্ড হল ৯৩০০-৩৪০০০ টাকা।
শিক্ষকদের এই দাবির মুখে পড়ে শিক্ষা দফতরের কর্তারা আগে পাল্টা যুক্তি দিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, বাংলায় বহু প্রাথমিক হলেন স্রেফ মাধ্যমিক পাশ। তার পর এক বছরের ডিপ্লোমা রয়েছে। কিন্তু এনসিটিই-র নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চ মাধ্যমিকে বাধ্যতামূলক ভাবে ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। তার পর দু’
বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করতে হবে।
কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের বক্তব্য, রাজ্যে মোট সাড়ে তিন লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের মধ্যে ২০০৫ সালের পরে যাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছেন তাঁরা সকলেই এনসিটিই-র শর্ত পূরণ করেছেন। সুতরাং শিক্ষা দফতরের এ সব কথা অর্থহীন।
এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে পরশু নজরুল মঞ্চে বৈঠক ডেকেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে উপায় বের করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছে শিক্ষা দফতর। তবে প্রাথমিক শিক্ষকরা এ দিন বলেন, নজরুল মঞ্চের বৈঠকে তাঁরা উপস্থিত হবেন ঠিকই। কিন্তু সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। শুধু দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে গাজর ঝুলিয়ে রাখলে চলবে না। সে ক্ষেত্রে আরও তীব্র আন্দোলনের পথে যাবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা।