কলকাতা পুলিশের রুদ্ধশ্বাস অপারেশন, গলায় দড়ি গুয়াহাটিতে, বাঁচিয়ে দিল লালবাজার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলিউডের রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারকেও হার মানিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা!
গুয়াহাটির অভিজাত আবাসনের ন’তলার ঘরে এক মহিলা ফেসবুক লাইভ করে আত্মহত্যা করার বন্দোবস্ত করছিলেন। সব সেড়ে নেওয়ার পর ঝুলেও পড়েছিলেন। কিন্তু লালবাজারের কন্ট্রোল রুম থেকে
শেষ আপডেট: 29 January 2020 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলিউডের রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারকেও হার মানিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা!
গুয়াহাটির অভিজাত আবাসনের ন’তলার ঘরে এক মহিলা ফেসবুক লাইভ করে আত্মহত্যা করার বন্দোবস্ত করছিলেন। সব সেড়ে নেওয়ার পর ঝুলেও পড়েছিলেন। কিন্তু লালবাজারের কন্ট্রোল রুম থেকে রুদ্ধ্বশ্বাস অপারেশন চালিয়ে ওই মহিলার প্রাণ বাঁচাল কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল।
ঘটনাটা কী?
মঙ্গলবার তখন গভীর রাত। হঠাৎ কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলে মেল আসে ফেসবুকের তরফে। তাতে একটি নির্দিষ্ট আইডি দিয়ে জানানো হয় এক মহিলা ফেসবুকে লাইভ করে আত্মহত্যার কথা বলছেন। মুহূর্তে কন্ট্রোল রুমের গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে যায়। ওই আইডি খুলে চোখ কপালে ওঠে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের।
দেখা যায় এক মহিলা গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে টুলের উপর উঠছেন। তারপর সিলিং ফ্যানে শাড়ি বেঁধে দিচ্ছেন কষে। হাত দিয়ে টেনে পরখ করে নিচ্ছেন শক্ত করে বাঁধা হয়েছে কিনা। এদিকে তখন ওই আইডি ট্র্যাক করছেন গোয়েন্দারা। মিনিট খানেক পেরনোর আগেই গোয়েন্দারা জানতে পারেন ওই অ্যাকাউন্টটি গুয়াহাটি থেকে অপারেট হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় গুয়াহাটি কমিশনারেটে। গুয়াহাটি কমিশনারেট যোগাযোগ করে চ্যাংসারি থানার সঙ্গে। ওই মহিলা যে আবাসনের বাসিন্দা সেটি ওই থানা এলাকাতেই।
এদিকে তখন প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটা বছর। এর মধ্যে ফেসবুক লাইভে গোয়েন্দারা দেখতে পান গলায় শাড়ি পেঁচানো অবস্থায় টুলের উপর দাঁড়িয়ে পড়েছেন মহিলা। তারপর টুলটা সরিয়েও দিয়েছেন। অর্থাৎ শরীর ঝুলছে পাখার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায়। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে গুয়াহাটি পুলিশের একটি দল। মহিলাকে অচৈতন্য অবস্থায় নামানো হয় সিলিং ফ্যান থেকে। নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাঁচানো গিয়েছে ওই মহিলার জীবন। গুয়াহাটি পুলিশের তরফে যোগাযোগ করা হয় ওই মহিলার স্বামীর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলা মানসিক অবসাদগ্রস্থ। বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি।
এখন প্রশ্ন হল গুয়াহাটির মহিলার জন্য কলকাতা পুলিশকে কেন জানাল ফেসবুক? জানা গিয়েছে, পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে প্রথমে লালবাজারের সঙ্গেই যোগাযোগ করে তারা। কারণ সময় বেশি ছিল না। যা করতে হয়েছে তাৎক্ষণিক ভাবে। কয়েক মাস আগে পিকনিক গার্ডেনের এক যুবককে আত্মহত্যা করা থেকে বিরত করেছিল কলকাতা পুলিশ। মধ্যরাতে ফেসবুক স্টেটাস দেখে মনোবিদকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে চলে গিয়েছিল কলকাতা পুলিশের বিরাট দল। এবার লালবাজারের তৎপরতা মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরাল অসমের মহিলাকে।