
শেষ আপডেট: 27 June 2020 12:49
এই ডেলিভারি বয়দের তরফে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “আমরা কয়েক দিন আগে জানতে পারি জোম্যাটোতে চিনা কোম্পানির ২৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রায় ২১০ মিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট রয়েছে সেই চিনা কোম্পানির। আজকের দিনে চিন আমাদের সৈন্যদের মারছে। আমাদের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে তারা। আমাদের সেনাদের সীমান্তে রক্ত ঝরবে। আর আমরা আমাদের ঘাম ঝরিয়ে আমাদের মারবার জন্য চিনকেই টাকা তুলে দেব? এখান থেকে যে লাভ চিন পাচ্ছে সেখান থেকে গুলি কিনে আমাদের সেনাদের মারছে তারা। এটা আমরা মানতে পারিনি।”
শাশ্বতবাবু আরও বলেন, “আমরা তো সীমান্তে গিয়ে গুলি খেতে পারব না। কিন্তু আমরা এটা করতে পারি যে কোম্পানিতে চিনের শেয়ার রয়েছে সেখানে কাজ করব না। বেহালা জোম্যাটোর তরফে আমরা প্রতিদিন কোটি টাকা তুলে দিই কোম্পানিতে। সেই টাকার ২৭ শতাংশ চিনের কোম্পানিতে যাচ্ছে। আমাদের দেশের সেনার রক্তমাখা ভাত আমাদের পরিবারের লোকেদের আমরা খাওয়াতে পারব না। এই গ্লানি নিতে পারব না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। জীবন- জীবিকা আমরা ঠিক করে নেব। আশা করি আমাদের সরকার আমাদের পাশে থাকবে।”
কিন্তু কী ভাবে তাঁরা এই গণ-ইস্তফা দিলেন?
শাশ্বতবাবু জানান, “বেশ কয়েক দিন ধরে আমরা ফোন করে করে আমাদের আইডি ব্লক করাচ্ছিলাম। কোম্পানি যখন জানতে পারে আইডি ব্লক করাচ্ছি তখন সেটা হচ্ছিল না। তাই আমরা মোবাইল থেকে অ্যাপ আন-ইনস্টল করে দিয়েছি। অ্যাপ না থাকলে তো আর অর্ডার দেওয়া যাবে না।”
জোম্যাটোর তরফ থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলেই জানিয়েছেন শাশ্বতবাবু। তাঁর দাবি, চিনের কোম্পানির সাথ ছাড়ুক জোম্যাটো। তাহলেই আমরা ফের ফিরে যাব। কারণ টাকাটাই তো সব নয়। দেশ আগে। কিন্তু যতদিন না তারা চিনা কোম্পানির সঙ্গ ছাড়ছে, ততদিন এভাবেই আরও বেশি মানুষ প্রতিবাদ করবেন বলেই তাঁদের আশা।