দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যস্ত সময়ের রাস্তা থেকে সিটি সেন্টারের পার্কিং লট, ফুটপাথ থেকে পাড়ার ভিতর পর্যন্ত অবাধ বিচরণ তাদের। এই পাল পাল গরু আর ষাঁড়ের উৎপাতে ঘুম ছুটেছে সল্টলেকবাসীর। ষাঁড়ের গুঁতোয় গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ডিবি ব্লকের বাসিন্দা তথা বিমানবন্দরের অবসরপ্রাপ্ত অধিকর্তা সুব্রত দাস। পুরসভার দাবি, সব গরু ‘বহিরাগত।’ একটিও সল্টলেকের নয়।
ঘটনা কী?
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ সুব্রতবাবু। অবসর জীবনে বাজার করা তাঁর এক ধরনের নেশা। কিন্তু সিটি সেন্টারের পার্কিং লট থেকে বেরনোর রাস্তায় আসতেই ঘটে যায় বিপত্তি। এক পাল গরুর মধ্যে থেকে হঠাৎ একটি ষাঁড় এসে গুঁতিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় সুব্রতবাবুকে। আশপাশের লোকজন ছুটে আসতে আসতে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁরাই উদ্ধার করেন সুব্রতবাবুকে। প্রথমে বাড়ি। তারপর সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বেশ কিছু দিন ভর্তি রাখা হয় তাঁকে।
সুব্রতবাবুর ছেলে কানাডায় থাকেন। বাবার খবর শুনে টরন্টো থেকে উড়ে আসেন তিনিও। কিন্তু ছেলেও গত বৃহস্পতিবার ফিরে গিয়েছেন। ফলে শয্যাশায়ী স্বামীকে নিয়ে এখন কঠিন পরিস্থিতি স্ত্রীর। হাসপাতালে অনেক টাকার বিল হচ্ছিল দেখে বাড়িতেই স্যালাইন, অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে সুব্রতবাবুকে।
কিন্তু সল্টলেকের মতো একটি ঝাঁ-চকচকে শহরে এত গরু-ষাঁড় আসছে কোথা থেকে? বিধাননগর কর্পোরেশনের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলেন, “সুব্রতবাবুর ঘটনা শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। কিন্তু সল্টলেকে কোনও খাটাল নেই। অথচ প্রচুর গরু আমরা দেখতে পাচ্ছি। পুরসভা ভাবছে কী করা যায়!” কৃষ্ণাদেবী আরও বলেন, “ছ’টি গরুকে ধরে গত এক মাস ধরে পুরসভার পাশে রাখা হয়েছে। তাদের খাবারও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনও মালিক আসেননি। এত গরু সল্টলেকে কোথা থেকে ঢুকছে সেটাই বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় কাউন্সিলর রাজেশ চিরিমার বলেন, “গরু কোথা থেকে আসছে এটা প্রথমে দেখতে হবে। আমরা সেটা দেখছি। আমি তো ধরে ধরে গরু তাড়িয়ে দিতে পারব না! একটা ব্যবস্থা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এখানে অনেক লোক গরুদের খাবার দেয়। আমি নিজেও রোজ গরুদের রুটি দিই। আর গরু নিয়ে যা রাজনীতি হচ্ছে তাতে আমি সব গরু তাড়িয়ে দিতে পারব না।”
স্থানীয়দের বক্তব্য, গরু আর কুকুরের উৎপাত সল্টলেকের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। যদিও সল্টলেকে যে সব গরু-ষাঁড় চরে বেড়াচ্ছে তাদের ‘বহিরাগত’ মানতে চাইছেন না তাঁরা। ডিবি ব্লকের এক বৃদ্ধ বাসিন্দার বক্তব্য, “সল্টলেকে গরু চ্রছে, আসছে কি দিল্লি থেকে?”