দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেহালার পর্ণশ্রীতে প্রোমোটারের রহস্যমৃত্যু। খুন নাকি আত্মহত্যা তাই নিয়ে ধন্দে পুলিশ। পর্ণশ্রীর ইন্দিরা দেবী রোডের সন্দীপ্তা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে ইন্দ্রজিৎ দাস নামের এক প্রোমোটারের ঝুলন্ত দেহ। জানা গিয়েছে, ওই বহুতলের তিন তলায় স্ত্রী এবং দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন ইন্দ্রজিৎবাবু।
পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল রাতে মেয়েদের নিয়ে পাড়ারই দোকানে গিয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎবাবুর স্ত্রী। সে সময় বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। এক ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসেন তাঁরা। কিন্তু ফ্ল্যাটের সামনে এসে আঁতকে ওঠেন মা ও দুই মেয়ে। তাঁরা দেখেন ফ্ল্যাটের সিঁড়ির রেলিং থেকে ঝুলছে ইন্দ্রজিৎবাবুর দেহ। ভয়ে-আতঙ্কে চিৎকার করেন মা ও মেয়েরা। চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসেন ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারাও। এমন দৃশ্য দেখে সকলেই হতবাক হয়ে যান।
এর মধ্যেই ফ্ল্যাটেরই কেউ ফোন করে খবর দেন পুলিশ। ঘটনাস্থলে এসে ইন্দজিৎবাবুকে উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা। সেখানে প্রোমোটারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মৃতের পরিবারের দাবি, ইন্দ্রজিৎবাবুকে কেউ খুন করে দেহ ওভাবে সিঁড়ির রেলিংয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। কোনও ভাবেই মৃতের পক্ষে আত্মহত্যা করা সম্ভব হয় না। কারণ তিনি ভাল ভাবে হাঁটাচলাও করতে পারেন না।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে একটা বড় অ্যাক্সিডেন্ট হয় ইন্দ্রজিৎ দাসের। সে বার প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকেই ভাল ভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না ইন্দ্রজিৎবাবু। বাড়ির মধ্যেই অল্প চলা ফেরা করতেন। কালেভদ্রে বাইরে বের হতেন। সেই মানুষের পক্ষে এভাবে আত্মহত্যা করা অসম্ভব বলেই জানাচ্ছে পরিবার। কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেনি পুলিশ। কীভাবে ইন্দ্রজিৎ দাসের মৃত্যু হল তা নিঃসন্দেহে ভাবাচ্ছে পুলিশকে।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। মৃতের সঙ্গে কারও কোনও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক শত্রুতা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতের স্ত্রী এবং মেয়েদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা হচ্ছে। ইন্দ্রজিৎবাবু কোনও কারণে অবসাদে ভুগছিলেন কিনা তাও জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।