দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে লেকটাউনের বাঙুরে। গতকাল সন্ধের দিকে ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। গভীর রাতে বাঙুর অ্যাভেনিউয়ের একটি বহুতলের পাশ থেকে তরুণীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ওই বহুতলটি থেকে তরুণী ঝাঁপ মেরেছিলেন বলেই মনে করছে পুলিশ। নিজের বাড়ি থেকে অতদূরের একটি আবাসনে কীভাবে ঢুকে গেলেন ওই ছাত্রী এবং কেনই বা ছাদে উঠে ঝাঁপ মারলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ছাত্রীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।
লেকটাউনের এসকে দেব রোডের একটি আবাসনে থাকতেন ওই তরুণী। নাম নিধি পোদ্দার। বয়স ১৮ বছর। জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধের দিকে পেন কিনবেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওই তরুণী। তার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোনও বন্ধ ছিল। তাঁর এক বন্ধু বাড়িতে ফোন করে জানায় নিধিকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। চিন্তায় পড়ে যান বাড়ির লোকজন। শুরু হয় খোঁজ।
রাতের বেলা লেকটাউন থানায় যোগাযোগ করে নিধির পরিবার। খোঁজ শুরু করে পুলিশও। পরে জানা যায়, নিধির আবাসন থাকে প্রায় ২ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য একটি আবাসনে একটি মেয়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। ওই মৃতদেহ যে নিধিরই তা শনাক্ত করে তাঁর পরিবারের লোকজন। দেহ উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এখন জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, মানসিক অবসাদ থেকে আত্মঘাতী হয়েছেন তরুণী। তবে অন্য প্রশ্নও উঠছে। তরুণীর যদি আত্মহত্যা করারই ইচ্ছা থাকত, তাহলে অচেনা আবাসনে গিয়েছিলেন কেন? ওই আবাসনে কি নিধির পরিচিত কেউ থাকত বা কেউ তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিল, সেটাও এখনও স্পষ্ট নয়। তরুণী আদৌ ঝাঁপ দিয়েছিলেন নাকি তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সত্যিই তরুণীর মানসিক অবসাদ ছিল কিনা, সেটাও তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।