দ্য ওয়াল ব্যুরো : তিনি চলে গিয়েছেন আজ ২৩ দিন হলো। চোখের জলে তাঁকে বিদায় জানিয়েছে 'তাঁর কলকাতা।' স্মরণ করেছে ক্যালকাটা ট্রিনিটির শেষজনকে। স্মরণ করেছে তাঁর একের পর এক কালজয়ী ছবিকে। কিন্তু শেষ জীবনে কি বড্ড একা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি? মৃণাল সেন। শেষ জীবনে কি ভালো ছিলেন না ভারতীয় সিনেমার আইজেনস্টাইন?
৩০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নাগাদ ৩৮, পদ্মপুকুর রোডে নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয় মৃণাল সেনের। বার্ধক্যজনিত অসুখে দীর্ঘদিন ভুগে ৯৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান তিনি। মৃত্যুর পর পিস ওয়ার্ল্ডে রাখা থাকে তাঁর দেহ। শিকাগো থেকে ছেলে কুণাল সেনের অপেক্ষায়। এতদিন পর সেই কুণাল সেনের একটি ফেসবুক পোস্টই জন্ম দিয়ে গেল বেশ কিছু প্রশ্নের।
রবিবার গভীর রাতে কুণাল নিজের ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করেন। কাঁপা হাতে ডায়েরির পাতায় লেখা একটি লাইন। "তুমি ভালো আছো? আমি ভালো নেই।" ছবিটি দিয়ে তলায় কুণাল লেখেন, "বাবা মারা যাবার পর তাঁর টেবিল ঘাঁটতে গিয়ে একটা খাতা নজরে এলো. এক লাইন লেখা. কবে লিখেছিলেন তা সঠিক জানা নেই, তবে শেষ কয়েক মাসের মধ্যেই হবে। একটা লাইন --তুমি ভালো আছো? আমি ভালো নেই।"
এরপর বেশ কিছু প্রশ্ন করেন কুণাল নিজেই। তিনি লেখেন, "কেন লিখেছিলেন? কার উদ্দেশে লেখা? এসব আমরা কোনও দিন জানবো না। শুধু এটাই জানবো যে মানুষের শেষ জীবনটা বড় ভয়ঙ্কর। একজন মানুষ যিনি সারা জীবনটা কাটিয়েছেন ব্যস্ততার মধ্যে, বন্ধুদের মধ্যে, তাঁর শেষ জীবনটা কেটেছে একাকিত্বে, অসহায়তায়।"
তবে কি এটাই সত্যি? পরিচালক হিসেবে যিনি ভুবন সোম, মৃগয়া, আকালের সন্ধানে, কলকাতা ৭১, পদাতিক, ওকা ওরি কথার মতো একের পর এক কালজয়ী ছবি বানিয়েছেন, শেষ সময়ে সত্যিই কি তিনি একা হয়ে পড়েছিলেন? ছেলে শিকাগোতে চাকরি করেন। স্ত্রী মারা গিয়েছেন। বাড়িতে দেখাশোনা করার লোক হয়তো ছিল, কিন্তু তাঁরা তো আর নিজের লোক নন। যে মানুষটা সারা জীবন অভিনেতা, অভিনেত্রী, টেকনিশিয়ান, ক্রু-এর ব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়েছেন, সবার অলক্ষ্যে একাই তাঁকে চলে যেতে হয়েছে।
[caption id="attachment_72791" align="aligncenter" width="960"]
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক[/caption]
তাই কি শেষ সময়ে কাউকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন এই একটা লাইন। কেউ জানেন না। জানা যাবেও না কোনও দিন। খালি তুলে যাবে একটা প্রশ্ন। এটা কি শুধু একা মৃণাল সেনের কথা? না কি সেইসব হাজার হাজার বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মনের কথা, যাঁরা শেষ জীবনে হয়ে পড়েন একা। তাঁরাও হয়তো বলতে চান, 'আমি ভালো নেই।' কিন্তু শোনার কেউ আছে কি?