দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত নভেম্বর মাস থেকে ফুসফুসে আটকে ছিল পেনের ঢাকনা। গড়িয়ার বাসিন্দা ১২ বছরের ওই কিশোরের শরীর থেকে শুক্রবার তা বের করলেন এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকরা কার্যত নতুন জীবন ফিরে পেল ওই কিশোর।
নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই ঠান্ডা লাগে ওই কিশোরের। জমতে থাকে কফ। কিন্তু কিছুতেই তা সারছিল না। অনেক ডাক্তার দেখিয়েও লাভ হচ্ছিল না। অবশেষে এসএসকেএম হাসপাতালের ইএনটি বিভাগে ওই কিশোরকে দেখাতে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন।
ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাক্তার অরুণাভ সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ওই কিশোরের সিটি স্ক্যান করানো হয়। তাতেই দেখা যায় ফুসফুসের বাঁদিকে একটি পেনের ঢাকনা রয়েছে। এরপরই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই কিশোর এখন ভাল আছে। তাকে জেনারেল বেডে দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী কয়েকদিন তাকে তরল খাবার খেতে হবে।
কিন্তু নভেম্বর মাস থেকে ছেলের ফুসফুসে পেনের ঢাকনা আটকে রয়েছে বিষয়টা বাবা-মা জানতেন না?
পরিবারের তরফে বলা হয়, অসাবধানে পেনের ঢাকনা গিলে নেওয়ার পর স্থানীয় একটি নার্সিং হোমে দেখানো হয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়, ওই ঢাকনে এমনিই বেরিয়ে যাবে। অস্ত্রোপচার করলে ছেলেটির প্রাণ সংশয় হতে পারে। তাই আর এগোননি বাবা-মা। কিন্তু কফ জমা ও ঠান্ডা লাগার ধাত এতটাই বেড়ে যায় এই দু’মাসে যে, বাড়ির লোক বাধ্য হয়ে এসএসকেএমে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কাটা হাত জোড়া লাগানো থেকে একাধিক বিরল অস্ত্রোপচারে সাফল্য পেয়েছে কলকাতার একাধিক সরকারি হাসপাতাল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল এই অস্ত্রোপচারও।