'মিটু'ই কি প্রাণ নিল ডকু পরিচালকের? ক্ষুব্ধ বন্ধু মহল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তোষপুরের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে অর্ঘ্য বসুর দেহ। ৪৮ বছরের অর্ঘ্য পেশায় ডকুমেন্টরি ফিল্ম মেকার এবং এডিটর ছিলেন। ২৬শে ফেব্রুয়ারি , বৃহস্পতিবার পুলিশ তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁর ঘর থেকে। এম আর বাঙুর হাসপাতালে নি
শেষ আপডেট: 4 March 2019 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তোষপুরের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে অর্ঘ্য বসুর দেহ। ৪৮ বছরের অর্ঘ্য পেশায় ডকুমেন্টরি ফিল্ম মেকার এবং এডিটর ছিলেন। ২৬শে ফেব্রুয়ারি , বৃহস্পতিবার পুলিশ তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁর ঘর থেকে। এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
একডালিয়ায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন অর্ঘ্য । সে দিন তিনি সন্তোষপুরের ফ্ল্যাটে যান। মা বারবার তাঁকে ফোন করেও না পাওয়ায় বন্ধুদের জানান। তাঁরা পুলিশ নিয়ে পৌঁছন সেখানে। তারপরই সব শেষ। কাঁটাপুকুর মর্গে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।
অর্ঘ্য সেন্ট জেভিয়ার্সে মাসকম এবং এডিট বিভাগের প্রধান ছিলেন। দীর্ঘদিন পুণের এফটিআইআইতেও শিক্ষকতা করেছেন। ২০১৭ এর ‘মিটু’ ঝড়ের সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্ঘ্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তাঁর পুরনো সহপাঠী। ঘটনার প্রায় ৭-৮ বছর পরের সেই অভিযোগ তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর বন্ধু অম্লান দত্ত, অঙ্কুর দাস, এবং অদিতি সরকার। এঁরা প্রত্যেকেই অভিযোগ করছেন, যে ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছিলেন সেই বান্ধবী , তার কোনও প্রমাণ ছিল না। আর এত বছর পরে সেই অভিযোগের পরেও বারবার অর্ঘ্য চেয়েছিলেন সেই অভিযোগকারিনীর সঙ্গে কথা বলতে। বুঝতে চেয়েছিলেন ঠিক কী কারণে এই অভিযোগ। কিন্তু কোনও উত্তর সেই মহিলার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। দ্য ওয়ালের তরফেও অভিযোগকারিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দিয়েছেন। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

অর্ঘ্য তামিল ফিল্ম এডিট করেছেন যা রোটারডাম ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়েছে। মারাঠী ফিল্ম এডিটও শেষ করেছিলেন। সেটা নিয়েই শেষ ক’মাস কাজ করছিলেন অঙ্কুর এবং অর্ঘ্য । তার মাঝেই এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন বন্ধুরা। তাঁরা চাইছেন অর্ঘ্যর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশে একটি অভিযোগ দায়ের করতে। সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ জানিয়েছে ফ্ল্যাটটি সিল করা হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা পুলিশের খাতায় তোলা আছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এখনও।
অদিতি সরকারের মতে, ‘মিটু’র ওই ঝড়ই কেড়ে নিয়েছে বন্ধুকে। ২০১৮'র এপ্রিল থেকে কিছুদিন অর্ঘ্য মনোবিদের সাহায্যও নেন নিজেকে ঠিক রাখতে। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না।
আরও পড়ুন
https://thewall.in/news-kolkata-taxi-driver-beats-thalassemia-affected-youth/