দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বেআইনিভাবে সোনা নিয়ে এসেছেন, এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল শুল্ক দফতর। সিঙ্গল বেঞ্চ সেই এফআইআর খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল শুল্ক দফতর তথা কাস্টমস। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, ডিভিশন বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হবে। সেই সঙ্গে হলফনামা পেশ করার নির্দেশও দিয়েছে উচ্চ আদালত।
এদিন মামলাটি শুনানির জন্য বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি মহম্মদ নিজামুদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। আদালতে শুল্ক দফতরের আইনজীবী আমন লেখি জানান, সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের কোনও আইনি ভিত্তি নেই। যে কারণ দেখিয়ে আবেদন খারিজ করা হয়েছে তা বেআইনি। কারণ কাস্টমস আইন ১১১ (এল) ধারা অনুযায়ী যে কোনও যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করতে পারেন শুল্ক দফতরের অফিসাররা। তাঁরা ফৌজদারি মামলাও দায়ের করতে পারেন। তা ছাড়া কাস্টমস আইন ১০৮ (এল) ধারায়, তল্লাশির অধিকারও দেওয়া হয়েছে।
শুল্ক দফতরের আইনজীবী আরও বলেন, এই বিষয়ে সমান্তরাল তদন্ত হচ্ছে বলে সিঙ্গল বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছে তা মানতে হলে শুল্ক দফতরের কোনও প্রাসঙ্গিকতাই তা হলে থাকে না। তার মানে তারা কোনও তদন্তই করতে পারবে না। অথচ শুল্ক দফতরের তদন্ত করা ও সমন পাঠানোর অধিকার রয়েছে। তাই এই মামলা গ্রহণ করার জন্য ডিভিশন বেঞ্চের কাছে আবেদন জানান তিনি।
এর পর বিচারপতিরা জানান, তাঁরা মামলাটি গ্রহণ করছেন। মামলার দ্রুত শুনানি করতে হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতিরা। তার আগেই শুল্ক দফতর এবং রুজিরা নারুলা ও তাঁর বোন মানেকা গম্ভীরকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
উনিশের লোকসভা ভোটের আগের ঘটনা। ব্যাঙ্কক থেকে ফেরার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে রুজিরার ব্যাগে তল্লাশি চালিয়েছিলেন শুল্ক দফতরের অফিসাররা। অভিযোগ উঠেছিল, স্যুটকেসের মধ্যে সোনা ছিল। তল্লাশির সময়েই নাকি বিমানবন্দরের পুলিশ ঢুকে শুল্ক দফতরের কাজে বাধা দেয়। ওই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর হয়েছিল। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল। সম্ভবত অভিষেক বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে পেরেই পরিবারকে আক্রমণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরেই রুজিরা নারুলার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল সিবিআই। গত ১৭ জুন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ সেই এফআইআর খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে ফের আবেদন জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর। সেই আবেদন গ্রহণ করল ডিভিশন বেঞ্চ।