দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে কলকাতার নামী বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ বহুদিনের। কোথাও চিকিৎসার জন্য বেশি খরচ নেওয়া, আবার কোথাও রোগীর পরিবারকে হেনস্থা, একাধিক অভিযোগ এসেছে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে। অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তা নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালগুলির জন্য অ্যাডভাইজরি জারি করে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন।
দু’সপ্তাহ আগে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন অ্যাডভাইজরি দিয়ে বলে, করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে খরচে লাগাম টানতে হবে। বেডভাড়া থেকে শুরু করে করোনা চিকিৎসার সব খরচ হাসপাতালের মধ্যে এমন জায়গায় ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে সবাই সেই খরচ দেখতে পারবেন। তার ফলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কত খরচ হবে তার আগাম হিসেব থাকবে রোগীর আত্মীয়দের কাছে। হাসপাতাল ইচ্ছেমতো টাকা চাইতে পারবে না। এতে রাজ্যে কোভিড চিকিৎসায় একটা স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলেই মত ছিল কমিশনের।
সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, তারা যে ১৫ দফা অ্যাডভাইজরি জারি করেছে, তা বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতালই মানছে না। তাই তাদের নোটিস পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই জানিয়েছিলেন, যে হাসপাতালগুলি অ্যাডভাইজরি মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করবে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন।
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সেই মামলা রুজু হয়েছে। হাসপাতালগুলিকে নোটিসও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের নোটিসের জবাব দিতে হবে। কোনও রকমের অনিয়ম মানা হবে না বলেই জানিয়েছে কমিশন।
দু’সপ্তাহ আগে কমিশনের তরফে অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছিল, খরচের তালিকার বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। রিসেপশন কাউন্টার, ক্যাশ কাউন্টার ও হাসপাতালে ঢোকার মুখে এমনভাবে সেই বোর্ড লাগাতে হবে, যাতে সহজেই তা চোখে পড়ে। কিন্তু একাধিক হাসপাতাল তা মানছে না বলেই অভিযোগ। যদিও কমিশনের নোটিসের পরে কিছু হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা বোর্ড লাগিয়েছে। অবশ্য নিজেদের অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত কমিশন। তাদের কাছে জবাব দিতে হবে হাসপাতালগুলিকে।