দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার তখন ভোর বেলা। বাড়ির বিছানায় ঘুমোচ্ছিলেন রিজেন্ট পার্কের আনন্দপল্লীর বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা পুরকায়েত। তার মধ্যেই ঘটে গেল বিপত্তি। ঘরে ঢুকে তাঁকে গুলি করে মারল প্রাক্তন প্রেমিক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বছর কুড়ির এই কলেজ ছাত্রীর। স্থানীয় ওমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন প্রিয়াঙ্কা।
দুই পিসি ও মায়ের সঙ্গে আনন্দ পল্লীর বাড়িতে থাকতেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর এক পিসি ও মা পরিচারিকার কাজ করেন। ভোর বেলাই বেরিয়ে যান। তাঁরা চলে যাওয়ার পরেই আততায়ী বাড়িতে ঢুকে দু'রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির শব্দেই ঘুম ভাঙে স্থানীয়দের। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময়ে তরুণী আর তাঁর বড় পিসি বাড়িতে ছিলেন। পিসিই পুলিশকে বয়ান দিয়ে জানিয়েছেন, জয়ন্ত হালদার নামের পাশের এলাকার এক যুবক খুন করেছে প্রিয়াঙ্কাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিয়াঙ্কার বাবা বছর দেড়েক আগে মারা গিয়েছেন। মা এবং এক পিসি পরিচারিকার কাজ করেই সংসার চালাতেন।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জয়ন্তর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার চার বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু জয়ন্ত বছর দুয়েক আগে এই তরুণীর উপর বিয়ের জন্য প্রবল চাপ দিতে থাকে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গ্র্যাজুয়েশন শেষ না করে তিনি বিয়ে করবেন না। পেশায় পণ্যবাহী গাড়ির চালক জয়ন্তর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায় এই তরুণীর। অন্য একজনকে বিয়ে করে জয়ন্ত। তার বিবাহিতা স্ত্রী এই মুহূর্তে সন্তানসম্ভাবা বলে জানা গিয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ফের প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে জয়ন্তর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। এই পর্বে জয়ন্ত নাকি বিয়ে করা স্ত্রীকে ছেড়ে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হওয়াতেই আক্রোশে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
যদিও অভিযুক্ত যুবক পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। জয়ন্তর পরিবারও গোটা ঘটনায় হতবাক। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও স্বামী খুন করেছে শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে পুলিশ খতিয়ে দেখছে এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা আর কোনও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন কিনা।
অভাবের সংসারে লড়াই করেই নিজের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, খুনিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক প্রশাসন।