দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা শহরে পুরনো বাড়ি যদি নতুন কেউ কিনে থাকেন সেক্ষেত্রে দেখা যায় পুরনো মালিকের পাহাড়প্রমাণ বকেয়া কর নিয়ে নতুন মালিককে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে শনিবার নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এবার থেকে পুরনো মালিকের যত বছরেরই কর বকেয়া থাকুক, নতুন মালিককে দিতে হবে সর্বোচ্চ ৬ বছরের কর।
শনিবার ‘টক টু মেয়র’-এ পর পর দুটি ফোন আসে গড়িয়ার ১১০ নং ওয়ার্ড থেকে। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার কর কাঠামো সরলীকরণ করার পর দেখা যাচ্ছে আগে যে ট্যাক্স দিতে হতো, এখন তার দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিধানসভায় গত বছরই কর কাঠামো সরলীকরণ করার জন্য আইন পাশ করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। পরপর দুটি ফোন পাওয়ার পর পুর আধিকারিকদের থেকে জানতে চান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। জানতে চান, এমন হওয়ার কারণ কী? জবাবে এক আধিকারিক বলেন, “স্যার বিষয়টা দেখে নিচ্ছি!”
এরপর মেয়র বলেন, একজন মানুষ কী ভাবে ওই বাড়ির আগের মালিকের বছরের পর বছরের ফেলে রাখা কর দেবেন? এতে তো যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে!” তারপরই ফিরহাদ বলেন, নতুন মালিকদের থেকে ৬ বছরের বেশি বকেয়া কর নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ একটি বাড়ি যদি হস্তান্তর হয়, তাতে যদি দেখা যায় যিনি বাড়িটি নতুন একজনকে বিক্রি করছেন তাঁর ২০ বছরের কর বকেয়া আছে, সেক্ষেত্রে নতুন মালিককে ৬ বছরের কর দিলেই হবে। ১৪ বছরের কর মুকুব হয়ে যাবে।
একইসঙ্গে মেয়র স্পষ্ট জানান, নতুন সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে শুধুমাত্র ইউনিট এরিয়া অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে করা কর কাঠামো। ২০১০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা পুরসভায় ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ঠিক হয় গোটা শহর জুড়ে পুরনো কর কাঠামোর পরিবর্তে চালু করা হবে এরিয়া ভিত্তিক কর ব্যবস্থা। যদিও সেই কর ব্যবস্থার আওতায় থাকা প্রায় ৮ লক্ষ শহরবাসীর মধ্যে এখনো পর্যন্ত মাত্র ১ লক্ষ ৭৫ হাজারের কিছু বেশি করদাতা যুক্ত হয়েছেন। ফলে কর বাবদ আয় কমেছে কলকাতা পুরসভার। মেয়র ফিরহাদ হাকিম দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জোর দেন এলাকাভিত্তিক করকাঠামো সরলীকরণের উপর। এদিনও সেকথা বলেন তিনি।