দ্য ওয়াল ব্যুরো: টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসে পুলিশের জালে ভুয়ো পরীক্ষার্থী। গ্রেফতার করা হয়েছে আসল পরীক্ষার্থীকেও। দু’জনকেই পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিচারক।
পুলিশ সূত্রে খবর, কাশীপুরের নর্থ কলকাতা পলিটেকনিক কলেজে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা ছিল। সেখানে পরীক্ষা পড়েছিল ঝাড়খণ্ডের সিংভুমের বাসিন্দা মহম্মদ সিবতাকুল্লাহর। পরীক্ষা চলাকালীন আধার কার্ড দেখতে গিয়ে সন্দেহ হয় পরিদর্শকের। সিবতাকুল্লাহর অ্যাডমিট কার্ডে যে ছবি ছিল তার সঙ্গে আধার কার্ডের ছবি মিলছিল না। এরপরেই তিনি জয়েন্ট এন্ট্রান্স দফতরে সেই খবর জানান। খবর দেওয়া হয় কাশীপুর থানায়।
সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পৌঁছয় কাশীপুর থানার পুলিশ। তাঁদের সামনে বেশিক্ষণ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারেনি ওই পরীক্ষার্থী। সে জানিয়ে দেয়, তার নাম মহম্মদ সিবতাকুল্লাহ নয়, উজ্জ্বল সুমন। তার বাড়ি বিহারের পাটনায়। সিবতাকুল্লাহর হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল সে। উজ্জ্বল আরও জানায়, তার সঙ্গেই কলকাতায় এসেছে সিবতাকুল্লাহ। হোটেলে রয়েছে সে। দু’জনকেই গ্রেফতার করে কাশীপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের সোমবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
পুলিশ সূত্রে খবর, দু’জনকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পিছনে একটা আন্তঃরাজ্য চক্র কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের দুই পড়শি রাজ্য বিহার ও ঝাড়খণ্ডে তারা সক্রিয়। গরিব অথচ পড়াশোনায় ভাল, এমন ছেলে-মেয়েদের টাকার লোভ দেখিয়ে আসল পরীক্ষার্থীর জায়গায় পরীক্ষা দিতে পাঠানো হচ্ছে। টাকা ছাড়াও তাদের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচও জোগাচ্ছে ওই চক্র। এই পরীক্ষা দেওয়ার নাম করে অবশ্য আসল পরীক্ষার্থীর কাজ থেকে অনেক বেশি টাকা নিচ্ছে ওই চক্র। পুলিশের সন্দেহ, শুধু ওই কেন্দ্রেই নয়, আরও কিছু কেন্দ্রে ভুয়ো পরীক্ষার্থী পাঠিয়েছে তারা।
বেশ কিছুদিন ধরে এই ধরনের চক্রের কার্যকলাপ বন্ধ ছিল। কিন্তু ফের তারা সক্রিয় হয়ে ওঠায় চিন্তিত পুলিশ। তাদের তরফে আবেদন করা হয়েছে, যে কোনও পরীক্ষার সময় পরিদর্শকরা যেন ভাল করে সবকিছু পরীক্ষা করেন। তাহলেই টাকার বিনিময়ে ভুয়ো পরীক্ষার্থী পাঠানোর কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হবে এই চক্র।