দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলু-পেঁয়াজের আকাশ ছোঁয়া দাম নিয়ে গত বৃহস্পতিবারই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পেঁয়াজ মজুত সংক্রান্ত নির্দেশিকাও দিয়েছে নবান্ন। আর এর পর থেকেই ব্যাপক তৎপর পুলিশ প্রশাসন। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছিল অভিযান। আলু-পেঁয়াজের দামে হ্রাস টানতে আজ শনিবার সকালেও বিভিন্ন পাইকারি বাজারে হানা দিয়েছিল কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।
জানা গিয়েছে, আজ ইবি অভিযান চালিয়েছে শিয়ালদার কোলে মার্কেটে। এর পাশাপাশি মানিকতলা এবং বৈঠক খানা বাজারেও হানা দিয়েছিল ইবি। আলু-পেঁয়াজের মজুতদারি রুখতেই এই অভিযান বলে জানিয়েছেন ইবি-র আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম রাখতে হবে ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়া চন্দ্রমুখী আলুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪২ টাকা এবং জ্যোতি আলুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা দাম নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিক্রেতাদের।
প্রসঙ্গত, পুজোর আগে পর্যন্ত খোলা বাজারে জ্যোতি আলু বিক্রি হচ্ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। অথচ পুজো পার হতেই সেই আলুর দাম গিয়ে পৌঁছে গিয়েছে ৪০-এর ঘরে। এখানেই শেষ নয়। চন্দ্রমুখী আলুর দাম শুনে রীতিমতো ভিরমি খাওয়ার অবস্থা আমবাঙালির। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। মধ্যবিত্তের হেঁশেলে গ্যাস না জ্বালালেও ছ্যাঁকা খাওয়ার উপক্রম। দাম শুনেই চোখে জল আসছে সাধারণ মানুষের।
সূত্রের খবর, গতকাল এবং আজ মিলিয়ে কলকাতার অন্তত ৬০টি বাজারে অভিযান চালিয়েছে কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। জানা গিয়েছে, গতকাল থেকে মোট চারটি টিম শহরের বিভিন্ন বাজারে হানা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই নবান্ন জানিয়েছেন, পাইকারি বিক্রেতারা ২৫ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ মজুত করতে পারবেন না। আর কোনও খুচরো বিক্রেতা সর্বাধিক ২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত করতে পারবেন। তার বেশি নয়। এর অন্যথা দেখলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
জানা গিয়েছে, আপাতত কলকাতার প্রায় সব বাজারে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এখন প্রত্যেকদিনই এই অভিযান চালাবে ইবি। যে আধিকারিকরা অভিযানে যাবেন, তাঁরা প্রত্যেকদিন ইবি-র দফতরে রিপোর্ট জমা দেবেন। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জেও একাধিক বাজারে অভিযান চালিয়েছেন কৃষি দফতরের আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল পুলিশও। সেখানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল যে, বর্ধমান পাইকারি বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সমস্ত জায়গায় আলুর দাম কমে যাবে। কিন্তু চলতি বছর আলুর স্টক কম থাকায় এটা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।