মদ খাওয়ায় বাধা দেওয়ায় বেধড়ক মারধর, মৃত্যু গড়ফার বৃদ্ধের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষষ্ঠীর রাতে গড়ফা এলাকায় একদল যুবককে মদ খাওয়ায় বাধা দিয়েছিলেন এক বৃদ্ধ। প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধ এবং তাঁর পরিবারের উপর চড়াও হয় মদ্যপ যুবকের দল। বেধড়ক মারধর করা হয় গড়ফারই বাসিন্দা ওই পরিবারের সদস্যদের। গুরুতর আহত অবস্থায় বৃদ্ধ-সহ
শেষ আপডেট: 30 October 2020 05:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষষ্ঠীর রাতে গড়ফা এলাকায় একদল যুবককে মদ খাওয়ায় বাধা দিয়েছিলেন এক বৃদ্ধ। প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধ এবং তাঁর পরিবারের উপর চড়াও হয় মদ্যপ যুবকের দল। বেধড়ক মারধর করা হয় গড়ফারই বাসিন্দা ওই পরিবারের সদস্যদের। গুরুতর আহত অবস্থায় বৃদ্ধ-সহ আক্রান্ত পরিবারের মোট ৬ সদস্যকে ষষ্ঠীর রাতেই ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরিবারের বাকিরা সুস্থ হয়ে গেলেও ওই প্রতিবাদী বৃদ্ধকে প্রাণে বাঁচানো যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এদিকে এলাকায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গড়ফা চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় যায় বিশাল পুলিশবাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, ষষ্ঠীর রাতে গড়ফার মণ্ডলপাড়ায় একটি নির্জন জায়গায় মদ্যপানের আসর বসিয়েছিল কয়েকজন যুবক। এলাকার যুবকদের সঙ্গে সেখানে হাজির ছিল বহিরাগতরাও। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার এক কিশোরও নাকি ওই মদ্যপানের আসরে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু কিশোরের মামা সে কথা জানতে পেরে ভাগ্নেকে নিয়ে আসার জন্য এলাকায় যায়। অভিযোগ, সেই সময় ওই কিশোরকে আটকে দেয় মদ্যপ যুবকরা। বাধা দেয় তার মামাকেও।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন এলাকার বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র মণ্ডল ও আরও কয়েকজন। সাময়িক ভাবে ঝামেলা মিটে গেলেও এর জেরে পরে যে বড় বিপদ হতে চলেছে তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি এলাকার কেউ। পুলিশ সূত্রে খবর, সেদিন রাতে বেরিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। তখন তাঁর রাস্তা আটকায় ওই দলের কয়েকজন মত্ত যুবক। শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, এর পর আচমকাই ধর্মেন্দ্রকে মারতে শুরু করে ওই মদ্যপ যুবকের দল। সেই সময় ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে ছিলেন তাঁর কয়েকজন বন্ধু এবং আত্মীয়। স্থানীয় ক্লাবে ফোন করে খবর দেন তাঁরা।
গোটা ঘটনা জানতে পেরে ছুটে আসেন এলাকারই বৃদ্ধ কানাই নস্কর। তিনি ওই যুবকদের বাধা দেন, প্রতিবাদ করেন। এর পর ধর্মেন্দ্রকে ছেড়ে কানাইবাবুর উপর চড়াও হয় মদ্যপ যুবকরা। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। খবর পেয়ে বৃদ্ধকে বাঁচাতে আসেন তাঁর পরিবারের লোকেরাও। অভিযোগ, তাঁদেরকে মারধর করে ওই যুবকরা। এর পর আহতদের সেদিন রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কানাইবাবুর চোট ছিল গুরুতর। যদিও প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসার পর সকলকেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎই শরীর খারাপ হয় কানাই মণ্ডলের। তড়িঘড়ি তাঁকে ফের এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবার। চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় তাঁর।
এই ঘটনার পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে গড়ফাবাসী। এদিকে ষষ্ঠীর রাত থেকেই পলাতক অভিযুক্তরা। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পুজোর সময়েই তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। তবে এবার ধারা পরিবর্তন করে নতুন ভাবে মামলা রুজু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার এবং এলাকাবাসী।